'হায় হায় কোম্পানি'

বাংলাদেশে ‘হায় হায় কোম্পানি’ করার সুবিধা হলো, চম্পট দেওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের খবর কেউ জানে না৷ বিদেশে লোক পাঠানো হলো ‘হায় হায় কোম্পানি’র বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার অন্যতম৷ গত শুক্রবারের প্রথম আলোয় ‘ভিশন-২০২০’ নামের এ রকম একটি কোম্পানির খবর এসেছে, যারা গ্রাহকদের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করে লাপাত্তা হয়ে গেছে৷
জনশক্তি রপ্তানি খাতে প্রতারণার ঘটনা বেশি দেখা যায়৷ বিদেশে চাকরি পাওয়ার অদম্য আকাঙ্ক্ষা নিয়ে অনেকেই উপযুক্ত মাধ্যমের খোঁজ করেন৷ আর এদেরই ধরার জন্য জাঁকজমকপূর্ণ দপ্তর খুলে বসে থাকেন প্রতারকেরা৷ ‘ভিশন-২০২০’ এ ধরনেরই একটি কোম্পানি৷ এরা ২০০৯ সালে কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন ধনী দেশে চাকরি ও লেখাপড়ার জন্য পাঠানোর কথা বলে যাত্রা শুরু করে৷ কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় তারা বিজ্ঞাপনও দেয়৷ সবই হয় প্রকাশ্যে এবং নজরদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নাকের ডগায়৷
এসব বিজ্ঞাপন দেখে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উচিত ছিল তাদের দাবির সত্যতা খতিয়ে দেখা৷ অতীতে ‘যুবক’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই পদ্ধতিতে হাজার হাজার মানুষকে পথে বসিয়েছে৷ অথচ তারাও পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিত, সভা-সেমিনার ইত্যাদি করে বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করে৷ কিন্তু পুলিশ, দুদক ও আর্থিক অপরাধ তদন্ত কমিটির উদাসীনতায় তারা কারও বাধার সম্মুখীন হয়নি৷ যখনই গ্রাহকেরা জোরেশোরে প্রতিবাদ করেন, তখন সরকারি সংস্থার টনক নড়ে৷ এ ধরনের আর্থিক অপরাধের কঠিন শাস্তি না হওয়ায় প্রতারকদের মনে ভয়ভীতি জন্মে না৷ সুতরাং, ভিশন-২০২০ যে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হতে পারল, তার দায় কোনোভাবেই সরকারি সংস্থাগুলো এড়াতে পারে না৷
চাকরি বা পড়ালেখার জন্য বিদেশে যেতে হলে কী করতে হবে এবং কী করা যাবে না, তা নিয়ে কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের উচিত জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য রেডিও-টেলিভিশন ও গণমাধ্যমে প্রচার চালানো৷ নজরদারি সংস্থাগুলোর উচিত এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা এবং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম তদন্ত করে দেখা৷ নইলে প্রতারণার ঘটনাই বাড়তে থাকবে, সুবিচারের আশা মানুষ হারিয়ে ফেলবে৷