‘স্যাক্রেড-দ্য ব্যাসিলিকা’, ভালোবাসার তালাও ঝোলে যেখানে
‘স্যাক্রেড-দ্য ব্যাসিলিকা’, ফ্রান্সের প্যারিস শহরের উত্তরাংশে অবস্থিত ঐতিহাসিক মনমার্ত্র পাহাড়ের চূড়ায় নির্মিত একটি বিখ্যাত রোমান ক্যাথলিক গির্জা। ফরাসিরা বলে, স্যাক্রে-ক্যো ব্যাসিলিকা। ১৮৭৫ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় চার দশকের প্রচেষ্টার পর ১৯১৪ সালে এর নির্মাণ সম্পন্ন হয়। সাদা ট্র্যাভার্টাইন পাথরে নির্মিত গির্জাটি তার দৃষ্টিনন্দন গম্বুজ, রোমান-বাইজেন্টাইন স্থাপত্যশৈলী এবং পাহাড়চূড়ার অবস্থানের কারণে বিশ্বের অন্যতম পরিচিত ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৩০ মিটার উঁচু হওয়ায় গির্জার সামনের বিশাল সিঁড়ি ও চত্বর থেকে প্যারিস শহরের অপূর্ব প্যানোরামিক দৃশ্য দেখা যায়। এ কারণে প্রতিদিন হাজারও পর্যটক, শিল্পী, আলোকচিত্রী ও ধর্মপ্রাণ মানুষ এখানে ভিড় করেন।
গির্জার আশপাশের এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই শিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মিলনস্থল হিসেবে পরিচিত। অনেক পর্যটক এখানে এসে প্রেম, বন্ধুত্ব কিংবা স্মরণীয় মুহূর্তের প্রতীক হিসেবে ধাতব তালা ঝুলিয়ে রাখেন। যদিও প্যারিসের ‘লাভ লক’ বা প্রেমের তালা লাগানোর ঐতিহ্য মূলত পঁ দেজার সেতুর সঙ্গে বেশি পরিচিত ছিল। তবু মনমার্ত্র ও স্যাক্রে-ক্যো এলাকার কিছু রেলিং ও বেড়ায় দর্শনার্থীদের লাগানো বেশ কিছু তালা চোখে পড়ে।
এসব তালায় অনেকেই নিজেদের নাম বা প্রিয়জনের নাম লিখে স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য এখানে লাগিয়ে রাখেন। অনেকে মনে করেন, এই তালা তাঁদের ভালোবাসাকে আরও সুধীর ও মজবুত করবে। তবে অতিরিক্ত ওজন ও স্থাপনার ক্ষতির আশঙ্কায় প্যারিস কর্তৃপক্ষ এ ধরনের তালা লাগানো নিরুৎসাহিত করে।
স্যাক্রে-ক্যো ব্যাসিলিকা শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, এটি প্যারিসের ইতিহাস, সংস্কৃতি, শিল্প ও পর্যটনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। পাহাড়চূড়ায় দাঁড়িয়ে শহরের বিস্তৃত দৃশ্য উপভোগ করার পাশাপাশি দর্শনার্থীরা এখানে ফরাসি স্থাপত্য, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং মনমার্ত্রের বোহেমিয়ান সংস্কৃতির এক অনন্য সমন্বয় দেখতে পান।