সাংসদ হারুন বলেন, দেশের শেয়ারবাজার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে আর ব্যাংকগুলো বঙ্গবন্ধু হাসপাতালের কেবিনে ভর্তি। অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও দেশ এখন দুর্যোগকবলিত। তিনি আরও বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রের আর্থিক কাঠামোর দিকে দৃষ্টি দিতে গেলে তার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থান কী, সেটা বিবেচনার বিষয়। দেশের শেয়ারবাজার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি আছে। সেখানে মাঝেমধ্যে চোখ একটু খুলছে, আবার চোখ বন্ধ করছে। চোখ খুলে যখন দেখে দরবেশ বাহিনী চারদিকে ঘেরা, তখন আবার চোখ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।’

হারুনুর রশীদ বলেন, ‘বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো আজ সাংঘাতিকভাবে লুটেরাদের দ্বারা আক্রান্ত। লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে, ঋণগ্রহীতারা কেউ ঋণ ফেরতও দিচ্ছে না, ঋণখেলাপিও হচ্ছে না। তারা দেদার আনন্দ–ফুর্তি করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যে কারণে ব্যাংকগুলো আজ আমাদের বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের সব কেবিনে ভর্তি। বঙ্গবন্ধু চিকিৎসক পরিষদের ডাক্তাররা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছে। আর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ এখন নিঃসন্দেহে একটি দুর্যোগকবলিত দেশে পরিণত হয়েছে।’

সাংসদ হারুন বলেন, ‘জাতীয় সংসদে সরকারি দল বিরোধী দল একাকার। বিরোধীদলীয় নেতা বাইরে বলছেন, বিরোধী দলের কোনো মূল্য নেই। সরকারি দলের কোনো মূল্য আছে? মন্ত্রীরা বরাবরই বলছেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কেউ অপরিহার্য নয়। এভাবে রাষ্ট্র আসলে চলতে পারে না। রাষ্ট্র একটি সম্মিলিত সরকারি দল, বিরোধী দল—সবার চিন্তা ও মেধা দিয়ে রাষ্ট্রকে পরিচালনা করতে হবে।’

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বিএনপির এই সাংসদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের দরকার কী? এটা বিলুপ্ত করে দেন।’

নিখোঁজ ধর্মীয় বক্তা ত্ব–হাকে খুঁজে বের করা এবং বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ করার দাবি জানান হারুনুর রশীদ। হারুন বলেন, তিনি বিএনপি করলেও তিন বছরে কখনো বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কোনো কটূক্তি করেননি। সরকারের যেসব অর্জন, সেসবও অস্বীকার করার উপায় নেই।

‘আমিই তো বিরোধীদলীয় নেতা’

বক্তব্যের শেষের দিকে হারুনুর রশীদ তাঁকে একটু সময় বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমিই তো বিরোধীদলীয় নেতা।’ হইচই করে তাঁর এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান জাতীয় পার্টির সাংসদেরা। একপর্যায়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জাতীয় পার্টির সাংসদ মসিউর রহমান দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান এবং হারুনের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান।

পরে স্পিকার বলেন, হারুনুর রশীদের ওই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করে দেওয়া হবে।
সাংসদ হারুনের বক্তব্যের পর সরকারি দলের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ বলেন, বিএনপির সাংসদ সংবিধানকে প্রতারণা দলিল বলেছেন, নিজেকে স্বঘোষিত বিরোধীদলীয় নেতা দাবি করেছেন। এগুলো এক্সপাঞ্জ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সংবিধান বুটের তলায় পিষ্ট করে জঞ্জালের রাজনীতি শুরু করেছিলেন জিয়াউর রহমান। ব্যাংক লুটপাটের হোতা জিয়াউর রহমান। তাঁর আমল থেকেই ব্যাংকে লুটপাট শুরু। ১৯৭৭ সালের ‘হ্যাঁ–না’ ভোট, ১১০ শতাংশ ভোট কাস্টিং যারা করেছিল, ২০০৬ সালে যারা ১ কোটি ৩০ লাখ ভুয়া ভোটার করেছিল, তাদের মুখে ভোটের কথা মানায় না। তারা মনে হয় চায়, আওয়ামী লীগ তাদের ভোটের এজেন্টও দিয়ে দেবে।

বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি সাংসদ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সুশসানের অভাব বাজেট বাস্তবায়নের অন্তরায়।

অন্য নেতাদের বক্তব্য

ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে সংরক্ষিত আসনের সাংসদ লুৎফুননেসা খান বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তার চেয়ে বড় কথা, এই অর্থ যথাযথ ও স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবহার করা হয় না। গবেষণা খাতের সব টাকাই রয়ে গেছে। স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটায় অভাবনীয় দুর্নীতি হয়েছে।

সরকারি দলের সাংসদ শফিউল ইসলাম বলেন, ‘বিরোধী দলকে ১৫ মিনিট সময় দিচ্ছেন আর আমরা পাচ্ছি ৭ মিনিট। এটা বৈষম্য। বেশি সুযোগ দেন, তারপরও তাঁরা বলেন সময় দেওয়া হয় না। কথা বলতে দেওয়া হয় না।’

বিরোধী দলের সংরক্ষিত আসনের সাংসদ রওশন আরা মান্নান বলেন, বাজেট কখনো আগের বাজেটের চেয়ে ছোট হয় না। এই বাজেটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প–উদ্যোক্তারা হতাশ হয়েছেন। বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য খুব বেশি কিছু খুঁজে পাওয়া যায় না। তিনি যত দ্রুত সম্ভব সব শ্রেণির মানুষ ও শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার দাবি জানান।

বিকল্পধারার সাংসদ এম এ মান্নান বলেন, স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে। অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে হতাশার চিত্র দেখা গেছে এই খাতে। তার কারণ সক্ষমতা ও দক্ষতার অভাব। স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি খাতে এ রকম সক্ষমতার অভাব, ব্যর্থতা মেনে নেওয়া যায় না।

অন্যদের মধ্যে সরকারি দলের সাংসদ সরওয়ার জাহান, আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দীন, আনোয়ারুল আজিম, শাহে আলম, ছলিম উদ্দিন তরফদার প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।