গতকাল মঙ্গলবার রেদোয়ান আহমেদ এলডিপির জাতীয় সরকারের প্রস্তাব নিয়ে বিএনপির এক নেতার বক্তব্যে উষ্মা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপির কিছু নেতা একদিকে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিচ্ছেন, অন্যদিকে কেউ কেউ ঐক্য বিনষ্টের জন্য বিভিন্ন সভা-সমাবেশে আপত্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন। জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে এ ধরনের বক্তব্য পরিহার করতে হবে।’

বিবৃতিতে শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, মানুষ যখন নিরপেক্ষ সরকারের অধীন নির্বাচনের জন্য উন্মুখ, তখন নির্বাচনের আগে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রস্তাব রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এবং জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

মঙ্গলবার রেদোয়ান আহমেদ বলেছিলেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে এমপি–মন্ত্রীসহ বিভিন্ন লোভনীয় প্রস্তাব থাকলেও এলডিপি বিএনপির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেনি।

বিষয়টি উল্লেখ করে শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ওই সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে তাঁদের যে আঁতাতের চেষ্টা ছিল, তা রেদোয়ান আহমেদের বক্তব্যে প্রমাণিত হয়েছে। দেনা-পাওনার হিসাব না মেলায় ও অলি আহমদের অতি চাহিদার কারণে এলডিপি তখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরকারে যেতে পারেনি বলে আলোচনা ছিল।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাবের পরও যারা নির্বাচনের আগে জাতীয় সরকার গঠনের পক্ষে কথা বলছে, তারা মূলত আওয়ামী লীগেরই অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে বলে বিবৃতিতে সেলিম বলেন। কারণ, নির্বাচনের আগে এ ধরনের সরকার হলে তাতে ক্ষমতাসীনদেরও অংশীদারত্ব থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এ ধরনের প্রস্তাবে দেশি-বিদেশি কুচক্রী মহলের ইন্ধন রয়েছে। আর এই প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিয়ে রোদোয়ান আহমেদরা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রকাশ ঘটিয়েছেন।’

বিবৃতিতে শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, যার অধীনে ২০১৪ সালে বিনা ভোটের নির্বাচন ও ২০১৮ সালে আগের রাতে নির্বাচন হয়ে যায়, তাকে সামনে রেখে তার অধীনে বা তার দলকে রেখে জাতীয় সরকার গঠনের কথা যারা বলে, তারা নিঃসন্দেহে জাতীয়তাবাদী শক্তির ভেতরে চক্রান্তকারী। অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপিকে একটি ‘কাগুজে বাঘ’ বলেও মন্তব্য করেন সেলিম।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রেদোয়ান আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বক্তব্যটা ছিল বিএনপির এক নেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে, যাতে তারা ভবিষ্যতে বক্তব্যের ক্ষেত্রে সংযত হয়। এখানে তো শাহাদাত হোসেন সেলিম কোনো অংশ না। তা ছাড়া সেলিমকে আমরা দল থেকে বের করে দিয়েছি। সে তো এলডিপির নাম ব্যবহার করতে পারে না।’

রেদোয়ান আহমেদ বলেন, ‘আমরা জাতীয় সরকারের কথা বলছি তিন বছর আগে থেকে। এখন এটাকে সরকারের দোসর বলাটা দুঃখজনক। আমরা যে বা যারাই জাতীয় সরকার বলেন, নির্দলীয় সরকার বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলেন, কোনোটিরই কিন্তু রূপরেখা কেউ বর্ণনা করেনি। এটা সবার আলোচনার ভিত্তিতে সাব্যস্ত হতে হবে।’

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন