default-image

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ তীব্র হওয়া এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে লকডাউন ঘোষণায় নিম্ন আয়ের মানুষের জীবিকায় আবার টান পড়েছে। কিন্তু এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ত্রাণ তৎপরতা খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। যদিও করোনার প্রথম ঢেউয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের যাঁর যাঁর এলাকায় অনেক ত্রাণ তৎপরতা ছিল।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর প্রথমে ৫ এপ্রিল থেকে সরকার ঢিলেঢালা লকডাউন শুরু করে। ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল এক সপ্তাহের জন্য কঠোর লকডাউন ছিল। সেটার মেয়াদ ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ঈদুল ফিতর পর্যন্ত নানা বিধিনিষেধের মধ্য দিয়েই যাবে দেশ। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, করোনার প্রথম ঢেউয়ে দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে ১৫-২০ শতাংশ। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এবং এর ফলে লকডাউন পরিস্থিতি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আরেকটি ধাক্কা হয়ে এসেছে। ফলে এবার মানুষের ত্রাণসহায়তা আরও বেশি দরকার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, দলীয় প্রধান সবাইকে দুস্থদের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছে। অল্পদিনের মধ্যে দলীয় ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার হবে।

দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের খানিকটা তৎপরতা দেখা গেছে। সংগঠনটি ৬ এপ্রিল কলাবাগান ক্রীড়াচক্র প্রাঙ্গণ থেকে ২টি লাশবাহী ও ১০টি ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা সার্ভিস শুরু করে। ঢাকায় বিভিন্ন স্থানে মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে সংগঠনটি। এরপর তারা টেলিহেলথ সেবা চালু করেছে। এ ছাড়া ছাত্রলীগ রোজা উপলক্ষে ঢাকায় অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রান্না করা খাবার বিতরণ করছে। বিনা মূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুরও ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রলীগ। এর বাইরে এই সময়ে আওয়ামী লীগের ত্রাণবিষয়ক কমিটি কিংবা অন্য সহযোগী সংগঠনের তেমন কোনো ত্রাণ তৎপরতা দেখা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রথম আলোকে বলেন, ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর সময়ও লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি মাথায় রাখতে হয়। অভাবগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজনের সময় আওয়ামী লীগ পাশে দাঁড়াবে, এতে সন্দেহ নেই। আস্তে আস্তে দলের সব স্তরেই ত্রাণ তৎপরতা বাড়বে।

যদিও সরকারি দলের কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন, গত বছর প্রথম ঢেউয়ের সময় এপ্রিল-মে মাসের সাধারণ ছুটির মধ্যে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ১ কোটি ২৫ লাখের বেশি পরিবারকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে ১০ কোটি টাকার ওপরে। সহযোগী সংগঠনগুলো বিনা মূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদান, সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ, রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ, টেলিমেডিসিন সেবা প্রদানসহ বহুমুখী ত্রাণ তৎপরতা চালিয়েছিল। সে সময় মন্ত্রী-সাংসদদের বাইরে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং দলীয় মেয়র, চেয়ারম্যান, মেম্বার ও কাউন্সিলররা ত্রাণ তৎপরতায় যুক্ত হন। এবার দলীয়ভাবে সে ধরনের গুরুত্ব দিয়ে কর্মসূচি নেওয়া হয়নি।

দলীয় প্রধান সবাইকে দুস্থদের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছে।
হাছান মাহমুদ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আওয়ামী লীগের দলীয় ফান্ড থেকে খুব বেশি খরচ করার সুযোগ নেই। তবে দল চাইলে ব্যবসায়ী ও দলের ধনাঢ্য নেতাদের কাছ থেকে অনুদান নিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে পারে। গত বছর এভাবেই ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। এটা আসলে সিদ্ধান্তের বিষয়। গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দেওয়ার পর সবাই তৎপর হয়েছিলেন।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় এক নেতা জানান, এবার সরকার বা দল থেকে ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর তেমন তাগিদ আসেনি। তাই দলের নেতাদেরও তেমন একটা উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না। নেতা–কর্মীদের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ভয়ও আছে। দলীয় সূত্র বলছে, এবার ত্রাণের সংগ্রহ ও বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। রমজানে জাকাত আর ত্রাণ দুটি একসঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন