default-image

হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ আরও ১০০ বছর, ২০০ বছর রাজত্ব করুক। আমাদের কোনো আপত্তি নেই। হেফাজতে ইসলাম সরকার পতনের আন্দোলন করছে না। কাউকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য কিংবা নামানোর জন্য হেফাজতের আন্দোলন না। কিন্তু ইসলামবিরোধী কোনো কার্যকলাপ চলবে না।’

আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের এক জরুরি সভা শেষে বাবুনগরী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

সভা শেষে সরকারের কাছে পবিত্র রমজান মাসে মসজিদে খতমে তারাবিহ, এতেকাফসহ সব ধরনের ইবাদত লকডাউনের আওতামুক্ত রাখাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। বাকি দাবিগুলো হলো, হেফাজতের নেতা-কর্মী ও সাধারণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি করা মামলা প্রত্যাহার। এসব মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তি, করোনার অজুহাতে কওমি মাদ্রাসা বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাহার ও তথ্য সংগ্রহের নামে মাদ্রাসায় হয়রানি বন্ধ করা।

বিজ্ঞাপন

হেফাজতে ইসলামের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মাওলানা মহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম, মাওলানা আবদুল আওয়াল, মাওলানা ইয়াহিয়া, সালাউদ্দিন নানুপুরী প্রমুখ। এ দিকে সভাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে হাটহাজারী থানার সামনে ও আশপাশে পুলিশ পাহারা ও সাঁজোয়া যান প্রস্তুত রাখতে দেখা গেছে। থানা থেকে মাদ্রাসার দূরত্ব ৫০০ গজের মতো।

সভা শেষে জুনায়েদ বাবুনগরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, হেফাজত কোনো তাণ্ডব চালায়নি; বরং ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের সন্ত্রাসীদের দিয়ে গুপ্ত হামলার তাণ্ডব চালিয়ে রাজনৈতিকভাবে এখন হেফাজতকে দোষারোপ করা হচ্ছে। সরকারের লোকজন এবং কতিপয় ইসলামবিদ্বেষী মিডিয়া এখন আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে মিথ্যাচার করছে।’ তিনি আরও বলেন, ২৬ মার্চ হেফাজতের কোনো কর্মসূচি ছিল না। কিন্তু ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদে মুসল্লিদের ওপর পরিকল্পিতভাবে পুলিশ ও সরকারদলীয় হেলমেট বাহিনীর আক্রমণের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষুব্ধ জনতা মিছিল বের করে। হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মিছিল বের হলে পুলিশ বিনা উসকানিতে গুলি করে পাঁচজনকে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলাম ২৭ মার্চ বিক্ষোভ ও ২৮ মার্চ শান্তিপূর্ণ হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করে। তিনি অভিযোগ করেন, হেফাজতের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ২১ জনকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ ও সরকারদলীয় ক্যাডার বাহিনী।

করোনার নামে মাদ্রাসা বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করার ষড়যন্ত্র দেশের তৌহিদি জনতা মেনে নেবে না। লকডাউনের নামে শরিয়তবিরোধী কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা যাবে না।

করোনায় এই পর্যন্ত কোনো মাদ্রাসাশিক্ষক ও ছাত্র মারা যায়নি দাবি করেন জুনায়েদ বাবুনগরী। কওমি মাদ্রাসাগুলো মানুষের টাকায় চলে উল্লেখ করে বাবুনগরী বলেন, আগে কয়েকবার মাদ্রাসাগুলোতে হয়রানি করা হয়েছে। কিন্তু এগুলো সরকারি অনুদান নেয় না। নেবেও না। মানুষের ভালোবাসায় টিকে আছে মাদ্রাসাগুলো।

উল্লেখ্য, ৩ এপ্রিল বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট জুনায়েদ বাবুনগরীসহ হেফাজতে ইসলামের ৫৪ নেতার হিসাব তলব করেছে। সরকারের একটি সংস্থার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এই হিসাব তলব করা হয়েছে। সেখানে হাটহাজারী মাদ্রাসাসহ কওমি কয়েকটি মাদ্রাসার হিসাবও তলব করা হয়।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন