বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পরিবর্তে বিএনপি এলে দেশের অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে; খারাপ অবস্থার ধারাবাহিকতা সৃষ্টি হবে। বিএনপি বিনা বিচারে হত্যা শুরু করেছে; আওয়ামী লীগ এসে তার ধারাবাহিকতায় রক্ষা করছে। বিএনপি দুর্নীতিতে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করেছে; আওয়ামী লীগ এসে সেই ধারাবাহিকতায় রক্ষা করছে।’

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অসুস্থতাকালে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা নিয়ে বিএনপির ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন জাপা চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘এরশাদ যখন জেলখানায় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন, তখন আমরা পিজি হাসপাতালে সুচিকিৎসার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছিলাম। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনাও এরশাদের সুচিকিৎসার জন্য বিবৃতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপি সরকার তখন জেলখানা থেকে পিজি হাসপাতালে নিয়ে এরশাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি। আজ বিএনপি তাদের নেত্রীর চিকিৎসার জন্য কান্নাকাটি করছে।’

দেশের মানুষ ভালো নেই উল্লেখ করে গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণহীনভাবে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে। অপরদিকে, কাজ নেই; মানুষের আয় নেই। তাই সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে বেশির ভাগ মানুষ। এম এ পাস করে যুবকেরা কাজের অভাবে রাস্তার পাশে হকারি করছে। শিক্ষিত বেকাররা সিএনজি অটোরিকশা চালাচ্ছে; তাদের মেধার মূল্যায়ণ হচ্ছে না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিবছর শত শত শিক্ষিত বেকার সাগর-পাহাড় পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে বিদেশে যাচ্ছে; অনেকের মৃত্যু হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দামও বাড়ানো হচ্ছে। কৃষক লোকসান দিয়ে ফসল ফলায়; আর মধ্যসত্ত্ব ভোগীদের হাত ঘুরে সেই ফসল ১০ গুণ বেশি দামে বিক্রি হয়। দেখার যেন কেউ নেই।’

মতবিনিময় সভায় জি এম কাদের দুর্ঘটনা, নারী নির্যাতনসহ আরও নানা বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন। দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে জাপা নেতা বলেন, ‘দেশের মানুষের মান-সম্মান, ইজ্জত ও জীবনের নিরাপত্তা নেই। সড়কে বের হলে দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাবে; ট্রেনের ধাক্কায় বাসের যাত্রী মারা যাবে; আর নদীতে দুর্ঘটনায় অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হবে-এটা যেন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাবে—এর কোনো বিচার হবে না।

আবার স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হচ্ছেন নারী। ইজ্জতের নিরাপত্তা নেই কোথাও। দাঁড়ি-টুপি দেখলেই তাকে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। অনেক নিরিহ মানুষকে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে। দেশটা দিনে দিনে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।’

দেশের বর্তমান নির্বাচনী সংস্কৃতি নিয়ে অসন্তোষের কথা জানিয়ে জি এম কাদের বলেন, নির্বাচনে সরকারি দলের টিকিট পেলেই সেখানকার পুলিশ ও প্রশাসনের একটি শ্রেণি নির্বাচনকে কলুষিত করতে উঠে–পড়ে লেগে যায়। নির্বাচনের মাঠে প্রতিপক্ষকে দাঁড়াতেই দিতে চাচ্ছে না ক্ষমতাসীনরা। এক ইউএনওর হাত থেকে নিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ছিড়ে ফেলেছে তারা। তারপরও অনেক স্থানে দেশের মানুষ লাঙ্গলে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন। অনেক স্থানে লাঙ্গলের বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতেই প্রমাণ হচ্ছে দেশের মানুষ আওয়ামী লীগ আর বিএনপিকে চায় না।’ এ অবস্থায় জাতীয় পার্টিকে আরও সুসংগঠিত করতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন দলটির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো মুজিবুল হক, কো- চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মনিরুল ইসলাম ও জহিরুল আলম। এ সময় কিশোরগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. রুকুন উদ্দিন ভূঁইয়া এবং কবি আসাদুজ্জামান আসাদ জাপা চেয়ারম্যানের হাতে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন