১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল রাজশাহী জেলের খাপড়া ওয়ার্ডে কমিউনিস্ট ও রাজবন্দীদের ওপর পুলিশ গুলি করে। গুলিতে বন্দী অবস্থায় জীবন উৎসর্গ করেন কমিউনিস্ট পার্টির সুধীন ধর, বিজন সেন, হানিফ শেখ, সুখেন্দু ভট্টাচার্য, দেলোয়ার হোসেন, কম্পরাম সিং ও আনোয়ার হোসেন। গুরুতর আহত হন আরও ৩২ জন কমিউনিস্ট ও রাজবন্দী।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড শাহীন রহমান। বক্তব্য দেন সিপিবির সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান খান, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাজী সাজ্জাদ জহির, খাপড়া ওয়ার্ডে আহত বন্দী রশিদ উদ্দিন আবুর কন্যা লীলা রশিদ, প্রসাদ রায়ের কন্যা বৃত্বা রায় দীপা।

আরও উপস্থিত ছিলেন কমরেড আব্দুস শহীদের কন্যা জয়া শহীদ। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লুনা নূর।

আলোচনা সভার শুরুতে খাপড়া ওয়ার্ডের শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন ও অস্থায়ী বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।

খাপড়া ওয়ার্ডের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে আলোচকেরা বলেন, খাপড়া ওয়ার্ডের লড়াই আমাদের গণতান্ত্রিক ও বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ পর্ব। শুধু ইতিহাসকে জানার জন্য নয়, ভবিষ্যতের দিশা পাওয়ার জন্যও খাপড়া ওয়ার্ডের লড়াই অনুধাবন করা জরুরি। খাপড়া ওয়ার্ডের গৌরবোজ্জ্বল কাহিনি ও শিক্ষা সবখানে ছড়িয়ে দিতে হবে।

আলোচকেরা আরও বলেন, মানবমুক্তির লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। খাপড়া ওয়ার্ডের লড়াইয়ের ধারায় নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে। শহীদ ও যোদ্ধাদের আদর্শ, লড়াই ও আত্মত্যাগের ধারা নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাবে। শহীদদের স্বপ্নের সমাজতান্ত্রিক ও সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই শহীদদের প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হবে।

বক্তারা খাপড়া ওয়ার্ডের শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া ও পাঠ্যপুস্তকে খাপড়া ওয়ার্ডের বিপ্লবী কাহিনি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

এ ছাড়া রাজশাহী জেলের ভেতরে খাপড়া ওয়ার্ড শহীদ স্মৃতিসৌধে সিপিবির নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আজ।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন