default-image

করোনায় আক্রান্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁর কয়েকজন চিকিৎসক। এ জন্য রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে করোনা ইউনিটে কেবিন বুক করা হয়েছে। সেখানে আইসিইউসহ সব ধরনের সুবিধা থাকছে। যদিও বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা যে পর্যায়ে, তাতে এখনই আইসিইউ–সুবিধার দরকার নেই।

অবশ্য চিকিৎসকেরা বলছেন, দেশে করোনার রোগী বাড়ছে। অল্প সময়ের মধ্যে আইসিইউ–সুবিধা পাওয়া নিয়ে গণমাধ্যমে নানা খবর আসছে। এ কারণে আগে থেকেই একটি আইসিইউ বেড ও কেবিন বুক করে রাখা হয়েছে।

খালেদা জিয়া গত শনিবার করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা আইসিডিডিআরবিতে দেন। ওই দিন রাতেই রিপোর্ট দেওয়া হয়। সেখানে দেখা যায়, বিএনপির চেয়ারপারসন করোনায় আক্রান্ত।

খালেদা জিয়ার একজন চিকিৎসক প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের বয়স হয়েছে। এখন তাঁর বয়স ৭৬ বছর। তা ছাড়া ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা আছে। করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁদের বয়স বেশি এবং অন্য শারীরিক জটিলতা আছে, তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই ঝুঁকিতে থাকেন। এসব বিবেচনায় তাঁরা মনে করছেন, হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হলে হাতের কাছেই চিকিৎসাসামগ্রী থাকবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে যেকোনো পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া যাবে।

বিজ্ঞাপন

অবশ্য এই চিকিৎসক বলেছেন, এই মুহূর্তে খালেদা জিয়ার কোনো জটিলতা নেই।
বিএনপির চেয়ারপারসনের মেডিকেল বোর্ডের এক চিকিৎসক মো. আল মামুন বলেছেন, খালেদা জিয়ার জ্বর, সর্দি, কাশি বা গলাব্যথা—এ ধরনের কোনো উপসর্গ এই মুহূর্তে নেই। তবে তারপরও তাঁরা সব ব্যবস্থা নিয়ে রাখছেন। তিনি বলেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) যে মেডিকেল বোর্ড আছে, সেই বোর্ড নিয়মিত আলোচনা করে তাঁর চিকিৎসা চালাচ্ছে।

ডা. মামুন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তাঁর অবস্থা স্টেবল। আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছি। আমরা প্রাইভেট হসপিটালে একটা কেবিন ঠিক করে রেখেছি। বাসায় একটা হসপিটাল করা হয়েছে, এখানে সবকিছুর প্রিপারেশন আছে, সব অ্যারেঞ্জমেন্ট আগের থেকে করে রাখা হয়েছে।’

চিকিৎসকেরা বলছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের পুরো চিকিৎসার বিষয় দেখভাল করেন তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী চিকিৎসক জোবাইদা রহমান। তিনি লন্ডনে স্বামীর সঙ্গে অবস্থান করছেন। সব ধরনের মেডিকেল রিপোর্ট ও খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা–সম্পর্কিত তথ্য জোবাইদা রহমানকে পাঠানো হয়েছে। ঢাকায় তাঁর পরিবারের সদস্যরাও সবকিছু জানেন। ডা. জোবাইদাসহ অন্যরা মিলে ঠিক করবেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে আপাতত বাসায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হবে, নাকি হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হবে।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। এখন তিনি সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়েছেন। তারপরও বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসার বিষয়ে সরকারের দিক থেকে করণীয় রয়েছে বলে আওয়ামী লীগের এক নেতা জানিয়েছেন। ওই নেতা বলেন, বিএনপি বা খালেদা জিয়ার পরিবার চাইলে তাঁরা ব্যবস্থা করবেন।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকেও একটি বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাখা হয়েছে।

ওই হাসপাতালের মালিক প্রথম আলোকে বলেন, তাঁকে ফোন করে একটি কেবিন রাখার ব্যাপারে বলা হয়েছে। তবে তিনি এও বলেন, কার জন্য রাখতে হবে, সে ব্যাপারে তাঁকে কিছু বলা হয়নি।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন