সম্মেলনপ্রত্যাশীদের পক্ষে ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা কামাল খান, সোহান খান, ইয়াজ আল রিয়াদ, আরিফুজ্জামান আল ইমরান, সৈয়দ আরিফ হোসেন, মেশকাত হোসেন প্রমুখ।

ছাত্রলীগের সর্বশেষ (২৯তম) জাতীয় সম্মেলন হয়েছিল ২০১৮ সালের মে মাসে। ওই বছরের জুলাইয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও গোলাম রাব্বানী। উন্নয়ন প্রকল্প থেকে চাঁদা দাবিসহ নানা অভিযোগে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে পদ হারান দুজন। তাঁদের স্থলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় আল নাহিয়ান খান ও লেখক ভট্টাচার্যকে।

২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আল নাহিয়ান খান ও লেখক ভট্টাচার্যকে ‘ভারমুক্ত’ করা হয়। এরপর থেকে প্রায় তিন বছর ধরে ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালন করছেন তাঁরা। দায়িত্ব দেওয়ার সময় বলা হয়েছিল, তাঁরা রেজওয়ানুল-রাব্বানীর অবশিষ্ট মেয়াদে (১০ মাস) দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু সেই কমিটি প্রায় তিন বছরে গড়িয়েছে।

আল নাহিয়ান ও লেখকের মেয়াদকালে একাধিকবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি অংশ সম্মেলনের দাবিতে সরব হয়েছে। তবে সম্মেলন আয়োজন বা নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে কোনো ঘোষণা বা বক্তব্য আসেনি। আল নাহিয়ান ও লেখক বরাবরই বলে এসেছেন, ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অভিভাবক আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখনই বলবেন, তখনই জাতীয় সম্মেলন আয়োজন করা হবে।

অবশেষে গত মঙ্গলবার (১০ মে) আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে সহযোগী সংগঠনগুলোর এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ছাত্রলীগসহ তিন সংগঠনকে সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মঙ্গলবারের ওই সভা শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রলীগ, যুব মহিলা লীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগকে সম্মেলন আয়োজন করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলে শেখ হাসিনার শিডিউল নেবে। তাঁর সম্মতি অনুযায়ী সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হবে।

ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সম্মেলনপ্রত্যাশী নেতা-কর্মীরা আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। এরই অংশ হিসেবে শনিবার মধুর ক্যানটিনে আল নাহিয়ান ও লেখকের সঙ্গে তাঁরা বৈঠক করলেন।

বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে সেখানে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগের সহসভাপতি সৈয়দ আরিফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, শেখ হাসিনার নির্দেশনার আলোকে ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশনা দিয়েছেন। আল নাহিয়ান ও লেখককে আওয়ামী লীগের দপ্তরে যোগাযোগ করে নেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের শিডিউল নিতে বলেছেন। কিন্তু এ বিষয়ে তাঁরা কিছু জানাননি।

সম্মেলনের বিষয়ে বৈঠকে আল নাহিয়ান ও লেখকের সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানান ছাত্রলীগের সহসভাপতি। তিনি বলেন, ‘লেখক আমাদের বলেছেন, “নেত্রী সম্মেলনের ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা দেননি। ওবায়দুল কাদের সাহেব সম্মেলন নিয়ে মনগড়া কথা বলেছেন।”’

ওবায়দুল কাদের সম্মেলনের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার পর মহিলা আওয়ামী লীগ ও যুব মহিলা লীগ তাদের সম্মেলনের প্রস্তুতির বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বলে জানান সৈয়দ আরিফ। তিনি বলেন, ‘আল নাহিয়ান ও লেখক আমাদের জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের দপ্তর সেলে যোগাযোগ করার পর তাঁরা জানতে পেরেছেন, ছাত্রলীগের সম্মেলনের বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। মাননীয় নেত্রীর (শেখ হাসিনা) শিডিউল নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করলে তাঁরা (নাহিয়ান ও লেখক) কোনো সদুত্তর দিতে না পেরে আমতা আমতা করেন। পরে তাঁরা বলেছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে এ ব্যাপারে নেত্রীর সঙ্গে দেখা করে বা মুঠোফোনে যোগাযোগ করে সম্মেলনের তারিখের বিষয়ে কথা বলবেন। এরপর আমরা বের হয়ে চলে আসি।’

এদিকে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে আল নাহিয়ান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের কয়েকজন নেতা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরা জানার চেষ্টা করেছেন যে সম্মেলনের তারিখ হয়েছে কি না। এখনো সম্মেলনের কোনো তারিখ হয়নি। কেন্দ্রীয় নেতাদের আমরা বলেছি, দেশরত্ন (শেখ হাসিনা) যে তারিখ নির্ধারণ করে দেবেন, সেই তারিখেই ছাত্রলীগের সম্মেলন হবে।’

আল নাহিয়ান আরও বলেন, ‘গত মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কিছু সহযোগী সংগঠনের (মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ) কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। নেত্রীর সঙ্গে কথা বলে সম্মেলনের তারিখ নিয়ে দপ্তরে জানাতে বলেছিলেন তিনি। আমরা দপ্তরে কথা বলেছি। তবে সেখান থেকে কোনো নির্দেশনা পাইনি। পরে আমরা ওবায়দুল কাদেরকে বিষয়টি জানিয়েছি। তখন তিনি বলেছেন, “নেত্রী যখন বলবেন, তখনই সম্মেলন হবে।” সম্মেলন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়। আমরা সম্মেলন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত আছি।’

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন