বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর হাতে আসা জরুরি ওই সভার কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। আর ‘সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ’ নামের যে কমিটির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তা মূলত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের দিয়েই গঠিত ছিল। আজও হল কর্তৃপক্ষের ওপর পরিষদের একই ধরনের চাপ আছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

default-image

শিক্ষার্থী ও হল সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, হলের আসন-বাণিজ্য, ডাইনিং ম্যানেজার নির্বাচন, খাবারের বিল বকেয়া রাখা, নেতাদের পড়াশোনা শেষ ও সিট বাতিল হওয়ার পরও তা দখলে রাখা, হলের বিভিন্ন কর্মসূচি নিজেদের মতো করে সাজানোসহ সবকিছুতে আছেন পরিষদের নেতারা। স্বার্থ হাসিলে হল প্রশাসনকে চাপে রাখেন তাঁরা। তাঁদের মতের সঙ্গে কোনো প্রভোস্ট দ্বিমত করলে সে চাপ যায় আরও বেড়ে। তাঁদের কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো শিক্ষক বা সাধারণ শিক্ষার্থী প্রতিবাদ করলে তাঁদের ভিন্ন মতাদর্শের ‘ট্যাগ’ দিয়ে হেনস্তা করার অনেক নজির আছে।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নিয়মানুযায়ী ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ানের বৈধভাবে হলে সিট থাকার কথা সর্বোচ্চ ২০১৮ সাল পর্যন্ত। তবে এখনো তিনি হলেই থাকছেন।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও তিনজন হল প্রভোস্টের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ছাত্র সংসদ নেই। ছাত্রকল্যাণ পরিষদে যেহেতু ছাত্রদের অংশগ্রহণ থাকা প্রয়োজন, তাই ‘ছাত্র কল্যাণ কমিটি’ নামে একটি কমিটি তৈরি করে গেছেন সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর। বেশির ভাগ সময় এ কমিটিতে ছাত্রলীগের শীর্ষস্থানীয় দুই নেতা থাকেন। লিখিত নিয়ম না থাকলেও শিক্ষার্থীদের বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তেও একধরনের ভূমিকা রাখেন ছাত্রলীগের এই নেতারা।

অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ানের নেতৃত্বাধীন গ্রুপ লালন শাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. সেলিমকে ডাইনিং ম্যানেজার পদ তাঁদের অনুসারীদের মধ্য থেকে দিতে চাপ প্রয়োগ ও মানসিক পীড়ন করেছিলেন। সে কারণেই গত মঙ্গলবার তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

ছাত্রলীগ নেতাদের চাপে ও মানসিক নির্যাতনে গত পাঁচ বছরে বেশ কয়েকজন প্রভোস্ট নির্ধারিত সময়ের আগেই পদত্যাগ করেছেন। ১ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট পদ থেকে পদত্যাগ করেন ইইই বিভাগের অধ্যাপক কল্যাণ কুমার হালদার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘অধ্যাপক সেলিম বা আমার প্রভোস্ট হওয়ার ইচ্ছা ছিল না। বর্তমানে যে অবস্থা, তাতে কেউ এই পদে আসতে চান না। আর হল পরিচালনার জন্য আমাদের একটা কমিটি করতে হয়, সেই কমিটিতে মূলত তারাই (ছাত্রলীগ নেতারা) থাকে। এখন এই কমিটির মধ্যেই পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হয়ে গেছে। সবাই নিজের অনুসারীদের কমিটি বা ডাইনিং ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দিতে চেষ্টা করে। সব হলেই প্রায় একই রকম ঘটনা ঘটে।’

বর্তমানে সিএসই বিভাগের অধ্যাপক এম এম এ হাসেম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন সম্মানের সঙ্গে কাজ করার পরিবেশ নেই। আমি দুইটা হলের প্রভোস্ট ছিলাম। সিট বরাদ্দ থেকে ডাইনিং ম্যানেজার নিয়োগ সব সময় আমরাই ঠিক করতাম। এখন সবকিছু ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরাই ঠিক করে। এখন তারা হলসহ সবক্ষেত্রে আগ্রাসী ভূমিকা পালন করে।’

সাদমান নাহিয়ান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডাইনিং ম্যানেজারের ক্ষেত্রে হল অফিস থেকে দেওয়া ফরম পূরণ করতে হয়। সাধারণত শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা ম্যানেজার হন। সমঝোতার ভিত্তিতে যে কয়েকজন ম্যানেজার হওয়ার কথা, শুধু তাঁরাই ফরম পূরণ করেন। আমার গ্রুপের লোকদের ম্যানেজার দিতে বলেছি—এ অভিযোগ সঠিক নয়। আর আমাদের কোনো গ্রুপিং নেই। হল নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ সঠিক নয়। হলে ছাত্র ওঠানোর দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে ডিল করেন প্রভোস্ট। এ বিষয়ে তাঁরাই সব নিয়ন্ত্রণ করেন।’ সিট না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার ফজলুল হক হলে বৈধ সিট রয়েছে।’

এদিকে অধ্যাপক সেলিমের মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য গতকাল খানজাহান আলী থানা-পুলিশ খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আবেদন জানিয়েছে। এর আগে সকালে কুয়েট শিক্ষক সমিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্লাবে এক শোকসভা করে। সভায় বক্তারা বলেন, অধ্যাপক সেলিমের মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত ক্লাসে ফিরবেন না তাঁরা।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন