ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সরকারের বোধোদয় হয়েছে: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে এত দিন পর সরকারের বোধোদয় হয়েছে। এত দিন পর তারা বুঝতে পেরেছে, এ আইন নিয়ে বাড়াবাড়ি হয়েছে।
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে এক নাগরিক শোকসভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। সাংবাদিক নেতা ও সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশ (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশ।
সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পত্রিকায় পড়লাম, আইনমন্ত্রী বলেছেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে একটু বাড়াবাড়ি হয়েছে। এত দিন পর তাদের (সরকারের) বোধোদয় হচ্ছে যে এটা বাড়াবাড়ি হয়েছে। অথচ আমরা বহুবার বলেছি, সাংবাদিকেরা বলেছেন, আন্দোলন করেছেন যে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সম্পূর্ণভাবে খর্ব করবে, অন্যায়-অত্যাচার হবে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বপ্নকে পুরোপুরি ধ্বংস করবে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সাংবাদিকেরা যদি শক্ত হাতে লেখেন, আমরা যদি শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারি, তাহলে দেশের মানুষের যে অতীত-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি, তাতে এ দানবীয়, ভয়াবহ সরকার বুকের ওপর চেপে বসে আছে, তাকে সরানো সম্ভব। তিনি বলেন, একাত্তরে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম কেন? এই ৫০ বছর পর কি আমরা এই বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিলাম? এটি আমাকে অনেক বেশি তাড়িত করে। বাংলাদেশের যে আত্মা, সেটাকে এরা নষ্ট করে দিয়েছে। তবু আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। খালেদা জিয়াকে আমরা মুক্ত করতে সক্ষম হব এবং তাঁর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করে তাঁর জায়গা জনগণের কাছে তাঁকে ফিরিয়ে আনব।’
প্রয়াত সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, জাতির সংকটের মুহূর্তে সাহসের সঙ্গে বড় অবদান রেখেছেন এ সাংবাদিক। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল। গণমাধ্যমের এখন যা হাল, কথা বলা সমস্যা, লেখার সমস্যা, এ সময়ে তাঁর মতো দায়িত্বশীল, পরিশীলিত ও সাহসী মানুষের প্রয়োজন বেশি ছিল মনে হয়।
সভায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ১৩ বছর ধরে বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতি নেই, একভাবে বললে, রাজনীতিই নেই। অথচ রাজনীতি হচ্ছে সমাজের কমান্ডার। অর্থনীতি, সংস্কৃতি, ক্রীড়া—যা কিছুই বলেন, সবকিছুই রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে। তিনি আরও বলেন, ‘যারা ক্ষমতায় বসেছে, তারা ডাকাতি করে ক্ষমতায় বসেছে। ওকে আমি মানতে রাজি নই। আমি যত দিন পর্যন্ত জীবিত থাকব, এই ভোট ডাকাতির পক্ষে কোনো কথা বলব না। এর প্রতিবাদই করতে থাকব।’
সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান প্রমুখ।