default-image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামীপন্থী শিক্ষকনেতা আবদুর রহিম প্রথম আলোকে বলেন, সোমবার রাতে ক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভা হয়। যেহেতু রোববারের ওই ঘটনা নিয়ে একধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তাই সেদিনের প্রকৃত ঘটনা জানতে একটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি করা হয়েছে। কমিটি এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে ওই ঘটনার বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাইবে। ক্লাবের নেতা ও ফার্মেসি অনুষদের ডিন সীতেশ চন্দ্র বাছাড়কে প্রধান করে গঠিত ওই কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, রোববার বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা রিজভীর ক্লাবে আসাটাকে কেউ ষড়যন্ত্র বলতে পারে, তা তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য বিষয়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ক্লাব একটা মতবিনিময়, আড্ডা ও রিলাক্সেশনের জায়গা। এখানে অতিথি হিসেবে কেউ এলে তাঁকে আপ্যায়ন করা হয়। অনেক সময় রাত দেড়টা থেকে দুইটা পর্যন্তও ক্লাবে খেলাধুলা হয়। সেই খেলাধুলা ছাত্রলীগ-যুবলীগ, নাকি শিক্ষকেরা করেন, তা খুঁজে দেখুন। আমি একজনকে দাওয়াত দিলে সেটা দোষ হয়ে গেল? সেই দাওয়াতে কারও আসাটা ষড়যন্ত্র হয়ে গেল? পদ্মা সেতু ঝাঁকি দিয়ে ভেঙে ফেললাম—এ ধরনের বিশ্বাস কেউ কোন মগজে করে, জানি না! রুহুল কবির রিজভী আমার দাওয়াতে খাবার খেতে এসেছিলেন।’

default-image

ওবায়দুল ইসলাম আরও বলেন, ‘রুহুল কবির রিজভী কোনো জায়গায় দাওয়াত খেতে গেলে তাঁর সঙ্গে আরও পাঁচ-দশজন লোক যাবেন, এটা খুবই স্বাভাবিক কথা। সেখানে আমাদের ক্লাবের পাঁচজন সদস্যও ছিলেন, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়েরও কিছু শিক্ষক ছিলেন। এটাকে যদি কেউ ষড়যন্ত্র বলতে চায়, সেটা আমাদের কাছে অবিশ্বাস্য বিষয়। কারও পক্ষে এটা বিশ্বাস করা সম্ভব কি না, জানি না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে যেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে এবং লোকালয়ের মতো সবাই আসা-যাওয়া করে, সেখানে এসে কেউ ষড়যন্ত্রের সভা করবে? এত বড় আহাম্মক আমরা নই।’

এদিকে আজ বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কি সেনানিবাস? তা তো নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। সেখানে আমাদের বন্ধুবান্ধব থাকতে পারে। তাদের দাওয়াতে যদি আমরা সেখানে যাই, এখানে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব কী করে দাঁড় করানো হলো?’

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন