বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তবে দলটির নেতা তৈমুর আলম খন্দকার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে লড়ছেন। গত মঙ্গলবার দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদ থেকে তাঁর নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে বিএনপি। এর আগে ২৫ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা আহ্বায়কের পদ থেকেও তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এই পরিস্থিতিতে দলের কেন্দ্রীয় অবস্থান নিয়ে বিএনপির তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কিছুটা বিভ্রান্তি আছে। দলীয় সিদ্ধান্তে কেউ কেউ ক্ষুব্ধও হয়েছেন। তাঁরা মনে করেন, নির্বাচনের সুযোগে নেতা-কর্মীরা ঘর থেকে বের হতে পারছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির স্লোগানও দিতে পারছেন। অথচ তৈমুরকে দলীয় পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আবার অন্য নেতাদের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এর আগে ২০১১ সালে শেষ মুহূর্তে তৈমুর আলম সিটি নির্বাচন থেকে সরে যান দলের সিদ্ধান্তে। এবারও শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে থাকবেন কি না, এ নিয়েও সংশয় আছে।

নারায়ণগঞ্জের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি তৈয়ব হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তৈমুর আলম ব্যক্তিগত চিন্তা থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। দল তৈমুরের পদ কেড়ে নিয়েছে। দলের এই সিদ্ধান্ত কর্মীরা ভালো চোখে নেননি।

তবে তৈমুর প্রার্থী হওয়ায় তাঁর দলীয় পদ বাতিল করে নেতা-কর্মীদের প্রতি দলের অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মামুন মাহমুদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, প্রতীকও বরাদ্দ দেয়নি। যাঁরা দলীয় আদেশ না মেনে প্রার্থীর সঙ্গে মাঠে আছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও দল ব্যবস্থা নিতে পারে। এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত বিএনপির। তাই তৈমুরকে দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি কোনো কোনো নেতা বিএনপির কৌশল হিসেবে দেখছেন। তাঁরা মনে করেন, তৈমুরের নির্বাচন করার ফায়দা নিতে পারে সরকার। এ কারণে তাঁকে দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাঁরা তাঁর সঙ্গে প্রচারে আছেন, তাঁদের বিষয়ে দল শিথিলতা দেখাচ্ছে। আবার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিরোধের কারণেও বিএনপির কোনো কোনো নেতা প্রচারে সক্রিয় নেই। তাঁদের মধ্যে আছেন বিএনপির সাবেক দুই সাংসদ আবুল কালাম ও গিয়াসউদ্দিন। গত সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেনও নেই ভোটের প্রচারে।

তৈমুর আলম খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএনপির অবস্থান বিএনপি ভালো জানে। বিএনপি কি নৌকার পক্ষে ভোট চায়? স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা সবাই সরকারের হাতে নির্যাতিত। তাঁরা সবাই মাঠে আছেন। এর আগেও আমাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

এবার দল নির্বাচন সরে যেতে বললে কী করবেন, জানতে চাইলে তৈমুর বলেন, ‘এবার ফোনই ধরব না।’

আওয়ামী লীগে বিভক্তি থাকছেই

আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারা বলছেন, কেন্দ্রীয় নেতারা নিয়মিত নারায়ণগঞ্জে আসছেন। সরকারি দলের স্থানীয় সাংসদ শামীম ওসমানের সঙ্গে এখন পর্যন্ত তাঁদের কোনো বৈঠকের কথা জানা যায়নি। তবে গত সোমবার রাতে স্থানীয় থানা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

অবশ্য এমন হুঁশিয়ারিতে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না আইভীর পক্ষে কাজ করা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। তাঁরা বলছেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহার বিতর্কিত ফোনালাপের পর তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আইভীর নাম ভাঙিয়ে টাকা দাবি করায় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপরাধে মেয়র প্রার্থী নিজেই শাস্তি দাবি করেছিলেন খোকন সাহার বিরুদ্ধে। কাউন্সিলর পদ থেকে সরে যাওয়ায় মহানগরের নেতা রবিউল হোসেনকে সাময়িক বহিষ্কার করা ছাড়া এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কোনো শক্ত অবস্থান দেখা যায়নি। নেতারা বলছেন, নির্বাচন সামনে থাকায় বিবদমান দুই অংশের কাউকে হয়তো অসন্তুষ্ট করতে চায় না দল। এ কারণে শামীম ওসমানের অনুসারী খোকন সাহার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

তবে নৌকার প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী প্রথম আলোকে বলেন, দল ঐক্যবদ্ধ আছে। দলের সব পর্যায়ের সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মাঠে নামছেন। প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে কাজ করছেন।

২৮ ডিসেম্বর দলীয় প্রতীক পাওয়ার পর থেকে জনসংযোগে নেমেছেন আইভী। এক সপ্তাহের বেশি সময় পার হলেও দলে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কয়েকজন নেতাকে ভোটের মাঠে দেখা যাচ্ছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহানগর আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত। বিভাজন দলের ক্ষতি করছে। নৌকার লোকজনই নৌকা ঠেকাতে কাজ করছেন। বিষয়টি দলীয় নয়, ব্যক্তিগত শত্রুতা। ভয়ে হোক বা অন্য কোনো কারণে হোক, একটি অংশ নৌকার পক্ষে কাজ করছে না।

জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই প্রথম আলোকে বলেন, আপাতদৃষ্টে সবাইকে তো একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে। তৃণমূল নেতাদের দলের বাইরে না যেতে সতর্ক করে দিয়েছে কেন্দ্র। দলীয় সাংসদ ও খোকন সাহার বিষয়টি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ দেখছে। কেন্দ্র নিশ্চয়ই দ্রুততার সঙ্গে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে জনসংযোগ করছেন মেয়র পদে লড়াই করা দুই মূল প্রার্থী। অন্য পাঁচ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে চারজন নিয়মিত জনসংযোগে নামছেন।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন