বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

যে জমি নিয়ে বিরোধ

স্থানীয় সূত্র জানায়, কক্সবাজার সদরের যে জায়গা নিয়ে দ্বন্দ্ব, সেটির পরিমাণ ১ দশমিক ১০ একর। ১৯৯১ সালে গণপূর্ত বিভাগ থেকে এই জায়গার বন্দোবস্ত পেয়েছিলেন চকরিয়ার পূর্ব বড় ভেওলা গ্রামের সায়েরা খাতুন। জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে ছিল। শহরের সুগন্ধা এলাকার এই জমির নিয়ন্ত্রণ এখন মোনাফ সিকদারের পক্ষের লোকদের হাতে।

কক্সবাজার সদর ভূমি কার্যালয়ের নথি অনুযায়ী, এই জমি হোটেল-মোটেল জোনের অধীনে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) নু-এনং মারমা মং প্রথম আলোকে বলেন, এই এলাকাকে যখন হোটেল-মোটেল জোন করা হয়, তখন সেটি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু একটি খতিয়ানের দাগ নম্বর এর বাইরে থেকে যায়। এতে উচ্ছেদ করা যাচ্ছিল না। পরবর্তী সময়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসনে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। পরে খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করে ২০২০ সালের শুরুতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো
হয়। কিন্তু জায়গার মালিকদের একটি পক্ষ কাগজপত্র নিয়ে জেলা প্রশাসনে যায়। এর পর থেকে বিষয়টি ঝুলে আছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বর্তমানে জায়গাটির একটি অংশের নিয়ন্ত্রণে আছেন ওবাইদুল হোছাইন নামের এক ব্যক্তি। তিনি মোনাফ সিকদারের চাচা। সেখানে সুগন্ধা শুঁটকি মার্কেট করা হয়েছে। দোকান আছে ৩৪টি। প্রতিটির মাসে ভাড়া ১০ হাজার টাকা। এই মার্কেটের সামনে মোনাফকে গুলি করা হয়েছিল।

গত সোমবার বেলা সাড়ে তিনটায় শুঁটকি মার্কেটে কথা হয় মোনাফের চাচাতো ভাই রানা সিকদারের সঙ্গে। তিনি দাবি করেন, মার্কেটের জায়গা দখল নিয়ে মেয়র মুজিবুর রহমানের সঙ্গে মোনাফের বিরোধ শুরু হয়।

রানা সিকদার বলেন, ২০১৭ সালে তাঁর চাচা ওবাইদুল হোছাইন জায়গাটির ৫৫ শতক সায়েরা খাতুনের কাছ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে নেন। এর আগে জায়গাটি দখল করে রেখেছিলেন এক ব্যক্তি। তবে ২০১৯ সালে ওই ব্যক্তিকে হটিয়ে তাঁরা জায়গার নিয়ন্ত্রণ নেন৷ কিন্তু ওই ব্যক্তি আবার জায়গাটির দখল নিতে মেয়রের শরণাপন্ন হন। একপর্যায়ে মেয়র দলবল নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারির দিকে জায়গাটি দখলে নেন। তখন তাঁরা আদালতে যান। জুন মাসে আদালতের রায়ের ভিত্তিতে জায়গাটি তাঁদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

মোনাফের বড় ভাই ও মামলার বাদী মো. শাহজাহান প্রথম আলোকে বলেন, জায়গাটি তাঁদের নিয়ন্ত্রণে আসার পর থেকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছিল।

সব অভিযোগ অস্বীকার করে মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, এই জায়গার ব্যাপারে তিনি কোনো পক্ষেই নেই। দুই পক্ষের বিরোধের মীমাংসা করার চেষ্টা করেছেন তিনি।

মেয়র মুজিবুর রহমান প্রথম আলোকে আরও বলেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। দলের কিছু প্রভাবশালী ছাত্রলীগের সাবেক ক্যাডার মোনাফ সিকদারকে দিয়ে তাঁকে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি করে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন।

মামলায় গ্রেপ্তার নেই, তদন্ত চলছে

গত ২৭ অক্টোবর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মোনাফ সিকদারকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় গত রোববার বিকেলে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মেয়র মুজিবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাসরিন সরোয়ার কাবেরীসহ আটজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন শহরের পেশকারপাড়ার বাসিন্দা ও মোনাফের বড় ভাই মো. শাহজাহান। মোনাফ এখনো চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানান তাঁর স্বজনেরা।

হত্যাচেষ্টা মামলায় গতকাল রাত পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর-উল-গীয়াস প্রথম আলোকে বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। গুলি যারা করেছে, তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

কক্সবাজার থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, মোনাফ সিকদারের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ আছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগসহ আটটি মামলা আছে।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন