default-image

কারাবন্দী হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে ২৬ এপ্রিল বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর ও মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ নিয়ে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার সংখ্যা হলো ২০টি।

আজ রোববার রাজধানীর পল্টন থানায় আবাব আহমেদ রজবী ও মো. রুমাম শেখ নামের দুই ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলা দুটি করেন। দুটি মামলায়ই হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা লোকমান হাকিম, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব ও নাসির উদ্দিন মনিরকেও আসামি করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গত মাসে দুই দিনের জন্য বাংলাদেশ সফর করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর এই সফরের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামেন ধর্মভিত্তিক কয়েকটি সংগঠনের নেতা–কর্মীরা। এ নিয়ে গত ২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় জুমার নামাজের পর পুলিশ এবং ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও তার বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ধর্মভিত্তিক দলের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়।

বিজ্ঞাপন

এ সময় উভয় পক্ষের প্রায় ৭০ জন আহত হন। এ ঘটনায় মামুনুল হককে প্রধান আসামি করে ৫ এপ্রিল পল্টন থানায় প্রথম মামলা করেন ঢাকা মহানগর যুবলীগের (দক্ষিণ) উপদপ্তর সম্পাদক খন্দকার আরিফ উজ জামান।

এবার মামলা দায়ের করা আবাব আহমেদ রজবী ও রুমাম শেখ পুরান ঢাকায় ব্যবসা করেন বলে প্রথম আলোকে নিজেদের পরিচয় দিয়েছেন।

দুটি মামলার এজাহারের ভাষ্য অনেকটা একই রকম। আবাব আহমেদ রিজভীর করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মামুনুল হকের হুকুমে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব লোকমান হাকিম হাতে থাকা লোহার পাইপ দিয়ে অতর্কিতে তাঁর মাথায় বাড়ি মারেন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি সরে যান। তখন আঘাতটি তাঁর পায়ে লেগে জখম হয়। আঘাতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এই অবস্থায় যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবিব ও নাসির উদ্দিন মনির হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে আহত করেন।

অপর মামলার বাদী রুমাম শেখ প্রথম আলোকে বলেন, ওই দিন তিনি নামাজ পড়তে মসজিদে গিয়েছিলেন। নামাজ শেষে তাঁকে প্রচণ্ড মারধর করা হয় এবং বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে রাখা মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল অঞ্চলের সহকারী কমিশনার জাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মামলা দুটি পল্টন থানা নাকি গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করবে, সে বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মামুনুল হক ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ও সহিংসতার পর বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় ছিলেন। এর মধ্যে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আসেন তিনি। কয়েক মাস আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করেন। এরপর গত মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরেরও বিরোধিতা করেছিলেন তিনি। এ নিয়ে গত ২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররমে সংঘর্ষের জের ধরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতায় অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার রেশ যেতে না যেতেই ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার একটি রিসোর্টে এক নারীসহ ঘেরাও হন মামুনুল হক। একপর্যায়ে রিসোর্টে হামলা চালিয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন হেফাজতের কর্মীরা। এরপর ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের একটি মাদ্রাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাঁকে সাত দিনের রিমান্ডে পায় গোয়েন্দা পুলিশ।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন