default-image

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, উন্নত রাষ্ট্র গঠনে নবপ্রজন্মের মনন তৈরিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অনন্য। প্রকৃতপক্ষে সাংবাদিকেরা জাতিকে পথ দেখান, মানুষের তৃতীয় নয়ন খুলে দেন।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির রজতজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত আজ বৃহস্পতিবার ‘বঙ্গবন্ধুর ওপর লেখা প্রদর্শনীর সমাপনী ও ডিআরইউ সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। রাজধানীর সরকারি বাসভবন থেকে অনলাইনে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সম্মিলিত লক্ষ্য হচ্ছে একটি উন্নত রাষ্ট্র গঠন করা, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ রচনা করা, ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করা। এবং সেই উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে হলে একটি উন্নত প্রজন্মেরও প্রয়োজন, যে প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে। আর সেই নতুন প্রজন্মের মনন তৈরিতে, দেশকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করতে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, আজকের প্রেক্ষাপটে নতুন প্রজন্মের মনন তৈরি, সমাজে তৃতীয় নয়ন খুলে দেওয়া, সমাজের অসংগতিগুলো তুলে ধরা, দায়িত্ববানদের আরও দায়িত্ববান করা, সঠিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সাংবাদিকেরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এ কারণে সাংবাদিকদের প্রতি মমত্ববোধ থেকে এই করোনাকালে তাদের সহায়তার জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করেছিলেন এবং সেই তহবিল থেকে আমরা সহায়তা করে যাচ্ছি, যেটি ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা কোনো দেশেই করা হয়নি।’

বিজ্ঞাপন

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকার সমালোচনাকে সমাদৃত করার সংস্কৃতি লালন করে’ স্মরণ করিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তবে যদি শুধুই সমালোচনা হয়, ভালো কাজের প্রশংসা না হয়, তাহলে যারা ভালো কাজ করে, তারা উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে। সে জন্য সমালোচনার পাশাপাশি ভালো কাজের প্রশংসাও প্রয়োজন।

তথ্যমন্ত্রী এ সময় ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানমালা সুন্দর ও সফলভাবে সম্পাদন, বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর ওপর লেখার ওপর সম্মাননা প্রদানের আয়োজনের জন্য ডিআরইউকে অভিনন্দন জানান এবং তাদের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন।

বিভিন্ন বক্তার আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যমন্ত্রী জানান, ‘গণমাধ্যমকর্মী আইন এবং সম্প্রচার আইনের খসড়া দুটি অনেক দিন আগে আইন মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছিল। গণমাধ্যমকর্মী আইনের খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং করে আন্তমন্ত্রণালয় সভার মাধ্যমে চূড়ান্ত করার পরামর্শসহ আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কাজ শুরু করেছি। গণমাধ্যমকর্মী আইন পাশ হলে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইনের সব সাংবাদিকের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। সম্প্রচার আইন হলে এর আওতায় সম্প্রচার কমিশনের মাধ্যমে দেশের সম্প্রচার খাত পরিচালিত হবে।’ এ সময় মুজিব বর্ষেও বিভিন্ন কমিটিতে সম্পৃক্ত বহুসংখ্যক সাংবাদিককে তাঁদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান তথ্যমন্ত্রী।

ডিআরইউ সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরীর পরিচালনায় বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ বিশেষ অতিথি হিসেবে ও ডিআরইউ সদস্যরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তথ্যমন্ত্রীর পক্ষে বিশেষ অতিথি মনজুরুল আহসান বুলবুল ১৫ সাংবাদিকের হাতে ডিআরইউ সম্মাননা তুলে দেন।

মন্তব্য পড়ুন 0