সরকার পতনের জন্য সামনে আরও জোরালো কর্মসূচি আসছে বলে জানিয়েছেন গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা। তাঁরা বলেছেন, সরকার মনে করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে সর্বাত্মক দমন-পীড়ন চালিয়ে এবং রাস্তায় কিছু গাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলন শেষ করে ফেলেছে। সামনে আন্দোলন আরও জোরদার হচ্ছে।

হরতালের পক্ষে আজ সোমবার দুপুরে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা এসব কথা বলেন। সমাবেশের আগে এই মঞ্চের নেতা-কর্মীরা রাজধানীর পুরানা পল্টন, বিজয়নগর, সেগুনবাগিচা ও প্রেসক্লাব এলাকায় মিছিল করেন।

এই সরকার সব ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে বলে সমাবেশে অভিযোগ করেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, পদের চেয়ে বেশি পুলিশ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। আমলাতন্ত্রে পদ তৈরি করে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনের আগে এসব কাজ কেন করা হচ্ছে, তা সবাই জানে।

সরকার একতরফা নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে, যা পুরো দেশকে খাদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামানোর প্রস্তুতি চলছে। আগামী দিনগুলোতে আরও জোরদার কর্মসূচি আসছে।

‘আলোচনার ফাঁদে ফেলতে চায় সরকার’

গতকাল রোববার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। এ ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘একজন নেত্রী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেছেন। সংলাপের কথা তিনি বলেছেন। এ রকম কথা শোনা যাচ্ছে, কয়েক দিন নির্বাচন পেছানো যায় কি না এ রকম আলাপ-আলোচনা চলছে।’ সরকার এর মাধ্যমে বিরোধী দলগুলোকে ‘আলোচনার ফাঁদে’ ফেলতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু ইউসুফ। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবরের সঞ্চালনায় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাংগঠনিক সমন্বয়ক ইমরান ইমন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সহসভাপতি মোহাম্মদ সিরাজ মিয়া প্রমুখ সমাবেশে বক্তব্য দেন।