বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধ করলেও তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করতেন না বলে মন্তব্য করেন গোলাম কুদ্দুছ। তিনি বলেন, ‘তিনি (জিয়াউর রহমান) পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যার কথা জানতেন। পরোক্ষভাবে মদদও দিয়েছিলেন তাতে।’  

বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করে জোটের সভাপতি বলেন, ‘তারা আজ এমন কিছু দলের সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্য গড়েছে, যারা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। এখন তারা নতুন নতুন কৌশল নিয়েছে রাজনীতিতে। কিন্তু তাদের রাজনীতির ধারা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী। তারা সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র চায়। মির্জা ফখরুল মুখ ফসকে সেই সত্য কথাটি বলে দিয়েছেন।’

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ বলেন, ‘আজ ঘুমের ঘোরে হোক বা জাগরণে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে কথা বলেছেন, তাতে পাকিস্তানের সেই শক্তি, যারা একাত্তরে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিল, তাদের কথাই উচ্চারিত হয়। এই শক্তি কখনো মন্দির ভাঙে, নারীর টিপ পরার স্বাধীনতা হরণ করতে চায়, আবার কখনো নারীর পোশাক নিয়ে বিতর্ক তৈরি করতে চায়।’

জোটের কার্যনির্বাহী সদস্য সঙ্গীতা ইমাম বলেন, ‘মির্জা ফখরুলের ধৃষ্টতামূলক এই বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করে বিচারের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে বলতে চাই, এ কাণ্ডে মির্জা ফখরুলের শুধু রাজনীতি নয়, এ দেশে থাকার অধিকারও নেই।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ, ‘বাংলাদেশ কখনোই পাকিস্তানে পরিণত হবে না। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও আদর্শিক বাস্তবতার সাথে বাংলাদেশের সংস্কৃতির তফাত অনেক। বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে, বাংলাদেশের পার ক্যাপিটা ইনকাম (মাথাপিছু আয়) ২ হাজার ৫০৩ ডলার, পাকিস্তানের ১ হাজার ৫৬২ ডলার। পাকিস্তানও বলছে, পাকিস্তান থেকে ভাগ হয়ে বাংলাদেশ অনেক ভালো আছে। যাদের এই এগিয়ে যাওয়া ভালো লাগছে না, তারা পাকিস্তানে চলে যাক না।’

বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি মিনু হক বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৫০ বছর। মির্জা ফখরুলের যদি এতই খারাপ লাগে, তবে তিনি নির্লজ্জের মতো এখানে রয়ে গেছেন কেন? কেন পাকিস্তানে চলে যান না?’

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন