জাপার মহাসচিব বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধিতা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের ইভিএম কেনার সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়। তিনি ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ইভিএম কেনার সিদ্ধান্তকে নির্বাচন কমিশনের ‘গরিবের ঘোড়ারোগ’ বলে মন্তব্য করে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে জাপার মহাসচিব মুজিবুল হক আরও বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রত্যেককে আমরা চিনি। এরা সবাই আওয়ামী লীগের শাসনামলে ভালো নিয়োগ, প্রমোশন এবং পোস্টিং পেয়েছেন। এরা সবাই আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী। নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা ছাড়া নিয়োগ দিতে পারেন না। তাই আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগীরাই নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ পেয়েছেন। এ নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নির্বাচন কমিশন।’

মুজিবুল হক বলেন, ‘পাকিস্তানসহ বিশ্বের অনেক দেশই ইভিএমে নির্বাচন বন্ধ করেছে। ভারতেও সমালোচনা হচ্ছে ইভিএমে নির্বাচন নিয়ে। ভারতের কংগ্রেস ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে, তারা আর ইভিএমে ভোট করবে না। সারা বিশ্বেই ইভিএম নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে কিন্তু আমাদের নির্বাচন কমিশন প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ইভিএম কিনতে উঠেপড়ে লেগেছে।’

‘ইভিএম হচ্ছে নীরবে ভোট কারচুপির মেশিন’ উল্লেখ করে জাপার এই নেতা বলেন, ইভিএমের কোনো দোষ নেই, কিন্তু যাঁরা ইভিএম পরিচালনা করবেন, তাঁদের তো দোষ আছে। তা ছাড়া ইভিএমে অনেক সময় আঙুলের ছাপ মেলে না। এতে ঝামেলা সৃষ্টি হয়, ভোট গ্রহণে বিলম্ব হয়। দেশের মানুষ এখনো ইভিএমে ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়। মানুষ মনে করে ইভিএম হচ্ছে নীরবে ভোট কারচুপির মেশিন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের মতামতের গুরুত্ব না থাকে, তাহলে কেন তাঁদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করলেন?’

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন জাপার ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান খান, এম এ মুনিম চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ুন খান প্রমুখ। এতে সভাপতিত্ব করেন জাপা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নুরুল আজহার।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন