ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা প্রথম আলোকে জানান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুবলীগের সমাবেশের মঞ্চটি ছিল উদ্যানের লেকের পূর্ব পাশে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীদের একটি অংশ ছিল সামনে, অপর অংশটি কিছুটা পেছনে পড়ে যায়। ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের দুই অংশের মাঝখানে ছিলেন যুবলীগের ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। সমাবেশের প্যান্ডেলে আগে যাওয়া নিয়ে পেছনে থাকা ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যুবলীগ নেতা-কর্মীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। কিছুক্ষণ হাতাহাতি চলার পর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়তে থাকেন যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাও পাল্টা ঢিল ছোড়েন। ঢিলের আঘাতে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন হলের অন্তত সাতজন আহত হন।

হাতাহাতি-ঢিল ছোড়াছুড়ির সময় ছাত্রলীগের মিছিলে থাকা তিন নেতা-কর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, যুবলীগের ছোড়া ঢিলে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি কামালউদ্দীন রানা, একই হলের কর্মী জাওয়াদ ও সোপান, সূর্যসেন হল শাখার কর্মী আরাফাত অভি ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখার কর্মী সবুজ আলম। অন্য দুজনের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, যুবলীগের মহাসমাবেশ সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে মানুষের ঢল ছিল। সবার মধ্যেই ব্যাপক উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা ছিল। মানুষের ঢলের কারণে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করা নিয়ে কিছুটা বিড়ম্বনা সৃষ্টি হয়েছিল। আগে ঢোকা নিয়ে খানিকটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ঘটনা এর বেশি কিছু নয়।

এদিকে যুবলীগের সমাবেশ উপলক্ষে বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় আসা নেতা-কর্মীদের অবস্থান, মিছিল-স্লোগান, যত্রতত্র পার্কিংয়ের ফলে দিনভর বিশৃঙ্খল ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের সহযোগিতায় যুবলীগ নেতা-কর্মীদের একটি অংশ আবাসিক হলগুলোতেও ঢুকে পড়ে। তাদের ভিড়ে ক্যানটিন থেকে শুরু করে শৌচাগার পর্যন্ত বিড়ম্বনায় পড়েন শিক্ষার্থীরা।