নড়াইলের ঘটনার পর সেখানে যে ছেলেটির পোস্টের মাধ্যমে এ ঘটনা ঘটেছে, তাঁর বাবাকে এবং হামলার অভিযোগে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদেরও গ্রেপ্তার করার প্রক্রিয়া চলছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এর পেছনে কারা ইন্ধন দিয়েছে, সেটিও বের করা হবে। সুতরাং অতীতে যেমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এ ক্ষেত্রেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সব অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, সমস্ত গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও একইভাবে নির্বাচন হবে। ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য এবং কন্টিনেন্টাল ইউরোপের দেশগুলোতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সংসদীয় গণতন্ত্র বিদ্যমান। সেসব দেশে যে সরকার দেশ পরিচালনা করে আসছিল, তারাই নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করে। আমাদের দেশেও তা–ই হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্লোগান দিয়ে, স্বপ্ন দেখে কোনো লাভ হবে না।

বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলনে করোনার মধ্যেও বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার কমেছে বলে বলেন তথ্যমন্ত্রী। গত ১৪ এপ্রিল প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট-রিকভারি অ্যান্ড রেসিলিয়েনস অ্যামিড গ্লোবাল আনসারটেইনটি’ শিরোনামে প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে বলেন, সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতিতেও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ঘটার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ অর্থবছরে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার হ্রাস পেয়ে ১১ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২০ অর্থবছরে ছিল ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

হাছান বলেন, প্রকৃতপক্ষে বর্তমানে বাংলাদেশে অতি দারিদ্র্য হার ১০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দারিদ্র্য হার ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ এই করোনা মহামারির মধ্যেও সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপের কারণে এবং অর্থনীতিকে চাঙা রাখার জন্য সরকার যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, সেসব কারণে মানুষের মাথাপিছু আয় যেমন বেড়েছে, একই সঙ্গে দারিদ্র্য হার কমেছে—এটি আমাদের বক্তব্য নয়, এটি বিশ্বব্যাংকের বক্তব্য।

‘সম্প্রতি প্রকাশিত আইএমএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী জিডিপির নিরিখে বাংলাদেশ এখন পৃথিবীর ৪১তম অর্থনীতির দেশ, আর পিপিপিতে আমাদের অর্থনীতির অবস্থান আরও ওপরে’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এই করোনা মহামারির মধ্যেও দেশ এগিয়ে যাচ্ছে; অথচ মির্জা ফখরুল সাহেব বলছেন দেশে দারিদ্র্য ৪২ শতাংশ। খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন ৪২ শতাংশ ছিল। মির্জা ফখরুল সাহেব এখনো খালেদা জিয়ার আমলের মধ্যেই আছেন।’

বিএনপির সময়ের রিজার্ভের কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার। আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার সেটি ৪৮ বিলিয়নে উন্নীত করেছে। বিশ্বে পণ্য, জ্বালানি, পরিবহন এসব ব্যয়বৃদ্ধির কারণে সেই রিজার্ভ থেকে কিছু খরচ হয়েছে, এখন ৪০ বিলিয়ন ডলার আছে, যেটি দিয়ে ছয় মাসের আমদানি ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব। কোনো দেশে তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থাকাটাই স্বস্তিদায়ক। সে জায়গায় আমাদের ছয় মাসের রিজার্ভ আছে যেটি দিয়ে ছয় মাস আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।’

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন