এ সময় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি—সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি ও নৈরাজ্যের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা একমত হয়েছি যে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে আমরা সম্মিলিতভাবে আন্দোলন করে এই সরকারের পতন ঘটাব। এই সরকার থাকলে অর্থাৎ আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলে আমরা কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব না। আমরা একসঙ্গে এক জোটে কাজ করব।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আন্দোলনের মধ্য দিয়েই ঐক্য গড়ে উঠবে এবং এর মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ বলে দেবে ঠিক কোন পথে এগোব। তিনি বলেন, ‘এই সরকারকে পরাজিত করে সত্যিকারের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে কীভাবে একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে পারি, সেই লক্ষ্য আমরা কাজ করব। শুধু নির্বাচন নয়, আমরা যেন রাষ্ট্রের আমূল পরিবর্তন করতে পারি, মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার জন্য আমরা যৌথভাবে কাজ করব।’

এর আগে বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব। তিনি বলেন, ‘দেশে আজকে জনগণের মালিকানা নেই। একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, এবার আমরা স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র নির্মাণের লড়াই শুরু করব। এ আন্দোলনই হবে আমাদের দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ।’

আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘এবারের আন্দোলনের লক্ষ্য হবে একই সঙ্গে স্বৈরাচারী সরকার পতন এবং নিপীড়নমূলক অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার উচ্ছেদ, সংবিধানের সংস্কার। দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়। একই সঙ্গে শাসনতন্ত্রের পরিবর্তন। বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন, রাষ্ট্রের মেরামতসহ অনেক বিষয়ে আমাদের মধ্যে ঐকমত্য স্থাপিত হয়েছে।’

প্রয়োজনে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করে আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘আন্দোলনের কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও কথা হবে। আমরা মাঠে নামব, সেখানে জনগণ আমাদের সঙ্গে থাকবে। জনগণই আমাদের নির্দেশনা দেবে আমরা কোথায় যাব। আন্দোলনের কৌশল-পদ্ধতির সিদ্ধান্ত হবে মাঠে।’

বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ, বিএনপির মিডিয়া সেলের প্রধান জহিরউদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন। জেএসডির প্রতিনিধিদলে আ স ম রব ছাড়া আরও ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ছানোয়ার হোসেন তালুকদার, সহসভাপতি তানিয়া রব, কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন