আজ বা কালের মধ্যে বঙ্গভবন ছাড়বেন সাহাবুদ্দিন

আজ বা কাল সোমবারের মধ্যে বঙ্গভবন ছাড়তে পারেন সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপরই বঙ্গভবনে অফিস শুরু করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ছেড়ে তাঁর গুলশানের বাসায় উঠতে পারেন। আর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে অফিস করলেও স্পিকারের বাসভবনেই থাকবেন।

বঙ্গভবন ও সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আইন অনুযায়ী চাইলে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি এক মাস বঙ্গভবনে থাকতে পারেন। তবে মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। আজ রোববার নাগাদ প্রস্তুতি শেষ হলে তিনি বঙ্গভবন ছেড়ে দিতে পারেন। নতুবা কাল সোমবার বঙ্গভবন ছাড়তে পারেন তিনি। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবনে ব্যক্তিগত নৈশভোজের আয়োজন করেন। সেখানে বঙ্গভবনের কর্মকর্তারা আমন্ত্রিত ছিলেন। আরও কিছু আনুষ্ঠানিকতা করার কথা থাকলেও সেগুলো হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

গত শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র পাঠান মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্র হাতে পাওয়ার পর সংসদ ভবনের শপথকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি জানান স্পিকার। একই সঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের কথাও ঘোষণা করেন স্পিকার। মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন। অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন তিনি।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। সে হিসাবে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ২১ মাস আগে বঙ্গভবন ছাড়ছেন তিনি।

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের গুলশানের বাড়িতে চলছে পরিচ্ছন্নতার কাজ। একটি ঘরে রঙের কাজ চলছে
ছবি: প্রথম আলো

গুলশানের বাসায় প্রস্তুতি চলছে

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর রাজধানীর গুলশানে তাঁর নিজের বাসায় চলছে পরিচ্ছন্নতার কাজ। বাড়ির নিচতলার বসার জায়গাটি নতুন করে রং করা হচ্ছে, পরিষ্কার করা হচ্ছে আসবাব।

বাড়ির ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি বাসায় ফিরতে পারেন—এমন প্রস্তুতি নিয়েই কাজ চলছে। মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে বাড়িটির পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে থাকতেন।

গতকাল শনিবার সকালে গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়কে অবস্থিত বাড়িটিতে গিয়ে প্রস্তুতির দৃশ্য দেখা যায়। বাড়ির সামনে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী অবস্থান করছিলেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যকে সেখানে দেখা যায়নি।

বাড়ির ব্যবস্থাপক কবির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্যার কবে আসবেন, আমরা নিশ্চিতভাবে জানি না। তবে আমাদের সবকিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখতে বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী কাজ করছি। স্যার কয়েক দিনের মধ্যেই বাসায় আসতে পারেন।’

সরেজমিন দেখা যায়, বাড়ির নিচতলায় গাড়ি পার্কিংয়ের পাশেই একটি বসার কক্ষ রয়েছে। সেখানে কয়েকটি সোফা ও একটি টেবিল রাখা আছে। আসবাবগুলো পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। কক্ষের এক পাশে রঙের কয়েকটি কৌটা রাখা হয়েছে। দেয়ালের পুরোনো রং ঘষে তুলে নতুন করে রং করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

কবির হোসেন বলেন, প্রথমে রং করা হবে। এরপর সোফাগুলো পরিষ্কার করা হবে। লোকজন আসবেন, বসবেন—সে কারণেই জায়গাটি প্রস্তুত করা হচ্ছে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ
ফাইল ছবি

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি স্পিকারের বাসভবনেই থাকবেন

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য থাকার সুযোগ নেই। সংবিধান অনুসারে, মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পরই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এখন রাষ্ট্রপতির সব আনুষ্ঠানিকতা ও আচার পালিত হবে হাফিজ উদ্দিন আহমদের মাধ্যমে। ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে এবং শপথের মাধ্যমে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব শেষ হবে।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ত্যাগ করলেই হাফিজ উদ্দিন আহমদ সেখানে অফিস করা শুরু করবেন। রাষ্ট্রপতি কার্যালয় এবং বাসভবন—দুটিই বঙ্গভবন কমপ্লেক্সে। হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে অফিস করলেও বাসভবন হিসেবে সংসদ ভবন এলাকায় স্পিকারের বাসাতেই তিনি থাকবেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূতেরা রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করে থাকেন। বিদেশি অতিথিরাও সেখানে বৈঠক করেন। জাতীয় দিবসে বঙ্গভবনে নানা আচার-অনুষ্ঠান হয়। ফলে রাষ্ট্রপতি ও কিংবা ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম বঙ্গভবন থেকেই পরিচালিত হয়।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর আজ রোববার বেলা ১১টায় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং বিএনপির প্রয়াত চেয়ারম্যান খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানাবেন।