বিয়ে ও গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত অপচয় বন্ধে অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকরের আহ্বান
বিয়ে ও গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জাঁকজমক ও অপচয় বন্ধে অতীতে যে অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন ছিল, সেটি কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। প্রধানমন্ত্রীর মিতব্যয়িতার প্রসঙ্গ টেনে আজ সোমবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বেলা তিনটায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মিতব্যয়িতার প্রসঙ্গ টেনে শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘তিনি অপচয় পছন্দ করেন না। আমরা সাত সমুদ্র তেরো নদী পাড়ি দিয়ে যখন তাঁর কাছে (লন্ডন) যেতাম, তিনি একটি রং চা খাওয়াতেন। কখনো একটি চিপস তিন-চারজন ভাগ করে খেতাম। এখন দেখছি, তাঁর খাদ্য বাজেট মাত্র ১৫০ টাকা। এটা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য, কারণ অপচয়কারী শয়তানের ভাই।’
বিয়ে ও গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জাঁকজমক ও অপচয়ের সমালোচনা করে শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সাত-আট দিন আগে থেকে কোরিওগ্রাফার দিয়ে নাচের আয়োজন ধর্মীয় অনুশাসনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি বন্ধ করতে হবে। অতীতে যে অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন ছিল, এ আইনকে কার্যকর করতে হবে। এই অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইনটাকে কার্যকর করা যায়, যদি আমরা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলি, তাহলে মুদ্রাস্ফীতির পরিমাণ কমে আসবে। এক দিনে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম অন্তত ১০ পারসেন্ট কমে আসবে।’
শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব, ব্যয় বৃদ্ধি এবং দুর্নীতির কারণেই রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ অপচয় হয়েছে। যদি প্রকল্প প্রণয়নে বাজেট ঠিক রাখা হয়, পর্দা ও বালিশের কেলেঙ্কারি না হয় এবং যথাসময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়, তাহলে প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন অসম্ভব কিছু নয়।
দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর বিএনপির সরকার গঠন এবং ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধে বিধ্বস্ত অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে সরকার কী বাজেট দেয়, তা নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন বলে জানান শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী এমন একটি বাজেট দিয়েছেন, যেখানে সমালোচনার সুযোগ খুবই কম।
বন্দর ব্যবস্থাপনা নিয়ে শাহাদাত হোসেন বলেন, বেসরকারি টার্মিনাল পরিচালনার জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন। বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অনুসরণ করার আহ্বান জানান তিনি। ঠিকাদারদের কাজ ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন কাজ থমকে গেছে। ইপিজি বা সংশ্লিষ্ট জটিলতা থেকে আমাদের মুক্ত হতে হবে, না হলে কোনো উন্নয়ন সম্ভব হবে না।’
প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, যারা যৌবনে ব্যবসায়ী, পেশাজীবী বা করদাতা হিসেবে রাষ্ট্রকে অবদান দিয়েছেন, ৬৫ বছর বয়সের পর তাঁদের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা থাকা উচিত। শুধু রেলের টিকিট নয়, ব্যাংক ও স্বাস্থ্যসেবাসহ সব ক্ষেত্রে প্রবীণদের জন্য আলাদা লাইন ও বিশেষ সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।
নিজ নির্বাচনী এলাকা রামগঞ্জের জন্য একটি ওভারহেড পানির ট্যাংক নির্মাণের অনুরোধ জানিয়ে শাহাদাত হোসেন এলজিডি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ-লক্ষ্মীপুর-চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ, গরিপুর থেকে হাজীগঞ্জ পর্যন্ত চার লেন সড়ক এবং স্থানীয় হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি জানান।