রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা এক মামলায় গ্রেপ্তার গাজীপুর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আখতারুজ্জামানকে (৭৩) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আগামী সোমবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হামিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন ছিল। কিন্তু এই মামলার মূল নথি না থাকায় রিমান্ডের বিষয়ে শুনানি হয়নি। আসামিকে কারাাগারে পাঠিয়ে আগামী সোমবার রিমান্ডের বিষয়ে শুনানির দিন রাখা হয়েছে।
গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেন। এর আগে ১৯৯৬ সালে গাজীপুর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
গতকাল বুধবার রাতে গুলশানের একটি বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর আজ আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মো. মাসুদুর রহমান।
ডিবির আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি এ মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছেন মর্মে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। এ মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত সহযোগী অন্য পলাতক আসামিদের নাম–ঠিকানা সংগ্রহপূর্বক গ্রেপ্তার এবং তাঁদের রাষ্ট্রবিরোধী অবৈধ পরিকল্পনার তথ্য সংগ্রহ, ককটেল বোমার উৎসসহ মামলার ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৮ জুন সকালে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার মহাখালী বাস টার্মিনাল–সংলগ্ন এলাকায় নিবাস মজুমদারসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৩৫-৪০ জন নেতা–কর্মী মিছিল বের করেন। মিছিলে তাঁরা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টিসহ রাষ্ট্রবিরোধী নানা কর্মকাণ্ড চালান। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানা–পুলিশ মামলাটি দায়ের করে।