লিখিত বক্তব্যে হাসানুল হক ইনু বলেন, সেনাবাহিনীর তৎকালীন সিজিএস খালেদ মোশাররফ তাঁর অনুগত কয়েকজন অফিসারকে নিয়ে ৩ নভেম্বর ক্যু করে সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করে নিজেকে সেনাপ্রধান ঘোষণা এবং সামরিক আইন জারি করেন। তখন সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সিপাহিরা বিদ্রোহের সিদ্ধান্ত নেন। সিপাহিরা তখন কর্নেল আবু তাহেরের নির্দেশনা ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন। কর্নেল তাহের জাসদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি সিপাহিদের বিদ্রোহকে শৃঙ্খলার মধ্যে রাখতে, রক্তপাত এড়াতে জাসদ নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে বলিষ্ঠ হস্তক্ষেপ করেন। সিপাহি বিদ্রোহ সফল হয় এবং জিয়া মুক্ত হন।

জাসদ বা কর্নেল তাহের নিজের হাতে ক্ষমতা না নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন উল্লেখ করে হাসানুল হক ইনু বলেন, কর্নেল তাহের ও সিপাহিরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জিয়াকে মুক্ত করেছিলেন। কিন্তু জিয়া মুক্ত হয়েই সিপাহিদের দাবি অনুযায়ী জাতীয় সরকার গঠনের পথে না গিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করেন। কর্নেল তাহেরসহ শত শত অফিসার, সৈনিককে হত্যা করেন। ৭ নভেম্বরের ঘটনায় কর্নেল তাহের মহানায়ক, জিয়া খলনায়ক। বঙ্গবন্ধু যেমন খন্দকার মোশতাককে বিশ্বাস করে ভুল করেছিলেন, কর্নেল তাহেরও জিয়াকে বিশ্বাস করে ভুল করেছিলেন।

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, আজও দেশে অসাংবিধানিক শাসন, অসাংবিধানিক সরকার, মোশতাক-জিয়ার চাপিয়ে দেওয়া পাকিস্তানপন্থার সরকার আনার অপরাজনীতি চলছে।

লিখিত বক্তব্যে জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার বলেন, কর্নেল তাহেরের চেতনার ভিত্তি ছিল দেশের স্বাধীনতা, শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ এবং সমাজতন্ত্র। তাহেরের চেতনাকে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের ও সমাজতন্ত্রের দেশ গড়ে তোলার সংগ্রাম এগিয়ে নিতে জাসদ বদ্ধপরিকর।

অনুষ্ঠানে জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কর্নেল তাহেরের অনুজ অধ্যাপক মু. আনোয়ার হোসেন বলেন, দুই যুগের বেশি সময় দেশকে মিনি পাকিস্তানে পরিণত করে রাখা হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাকে বিসর্জন দিয়ে এ দেশকে একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। তাদের সেই ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত আছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর জাসদের সমন্বয়ক মীর হোসাইন আখতার। এ সময় আরও বক্তব্য দেন দলটির সহসভাপতি ফজলুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাদের চৌধুরী প্রমুখ।