ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ
আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না: ডাকসুর জিএস ফরহাদ
পুলিশের সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে অনেকে আহত হওয়ার প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। এই কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে ডাকসু নেতারা বলেছেন, আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্রকে কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না। তাঁরা বলেছেন, ইনকিলাব মঞ্চ আশঙ্কা করে তাদের জানিয়েছে আওয়ামী লীগের একটি অংশ আন্দোলনে অংশ নিয়ে এই আন্দোলনকে নস্যাৎ করে দেওয়ার বা ভিন্ন পথে পরিচালিত করার ষড়যন্ত্র করছে।
আজ শুক্রবার রাতে ডাকসু ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ এ কথা বলেন। এর আগে রাতে ডাকসু জানায়, শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে গণজমায়েত ও বিক্ষোভ হবে ডাকসু ভবনের সামনে। পরে রাত ১০টার দিকে এস এম ফরহাদ সেখানে বক্তব্য দেন।
এর আগে রাতে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজ থেকে একটি পোস্টে বলা হয়, ‘লীগ অ্যাকটিভ হয়েছে। তারা সাধারণ জনতার সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি অন্য দিকে প্রবাহের চেষ্টা করছে। শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে। আপনাদের সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।’
ডাকসুর সমাবেশে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা এস এম ফরহাদ বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের দায়িত্বশীলেরা আমাদের বারবার ফোন দিয়ে অনুরোধ করেছেন, তাঁরা আশঙ্কা করছেন—এখানে (আন্দোলনে) একই সঙ্গে পুলিশে যেমন আওয়ামী লীগের একটি অংশ উসকানি দিচ্ছে, তারা বারবার আক্রমণ করছে, শহীদ হাদিকে নিয়ে মকারি করছে, আমাদের আন্দোলনকে নিয়ে মকারি করছে, জুলাইকে নিয়ে মকারি করছে—সেই একটি গুপ্ত অংশ যারা আওয়ামী লীগ ছিল, আওয়ামী লীগের অংশ ছিল, তারা পুলিশে রয়ে গেছে। ঠিক একই সঙ্গে শাহবাগের জমায়েতের মধ্যেও আওয়ামী লীগের একটি অংশ সেখানে অংশ নিয়ে তারা এই আন্দোলনকে নস্যাৎ করে দেওয়ার, ভিন্ন পথে পরিচালিত করার ষড়যন্ত্র করছে।’
শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবির আন্দোলনকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে আগামী নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে, তা কখনো চান না বলে উল্লেখ করেন ফরহাদ। তিনি বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চ কিংবা শহীদ হাদির শাহাদাতকে এই নির্বাচনের মুখোমুখি করার একটি ষড়যন্ত্র করবে—সেটি আমরা এই নির্লজ্জ ষড়যন্ত্রের সুযোগ দিতে চাই না।’
সে কারণে ইনকিলাব মঞ্চের থেকে অনুরোধ পেয়ে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি ক্যাম্পাসের ভেতরে সংক্ষিপ্ত আকারে করছেন বলে উল্লেখ করেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক। ইনকিলাব মঞ্চ অন্যান্য ক্যাম্পাসেও একই অনুরোধ জানিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আন্দোলনকারীদের প্রতি ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে এস এম ফরহাদ বলেন, ‘আজকে ডাকসুর পক্ষ থেকে অন্যান্য ক্যাম্পাসকে অনুরোধ জানাব, আন্দোলন সংক্ষিপ্ত করে এই আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্রকে যাতে কোনোভাবেই সফল হতে না দেওয়া হয়।’ তিনি বলেন, একই সঙ্গে সামনে অন্যান্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের জন্য সরকারকে বাধ্য করা হবে, যাতে জাতিসংঘ কর্তৃক স্বাধীন একটি কমিশন করে বা তাদের ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী অন্যান্য রাষ্ট্র কীভাবে সম্পৃক্ত হতে পারে এই হত্যাকাণ্ডে, কীভাবে অন্য খুনিকে তারা পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র আশ্রয় দেয়—সবকিছু বের করে নিয়ে এসে, সত্যিকার অর্থে এই খুনের সঙ্গে যারা জড়িত দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক, সবাইকে খুঁজে বের করে আনতে হবে।
সেই দাবিতে আন্দোলন জারি থাকবে উল্লেখ করে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আজকের মতো আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র যাতে বাস্তবায়িত না হয়, নির্বাচনকে পণ্ড করার জন্য যে ষড়যন্ত্র তারা করছে, প্রশাসনকে এবং আমাদের জনগণকে পারস্পরিক মুখোমুখি করে দিয়ে পুলিশে গুপ্ত থাকা আওয়ামী লীগের একটি অংশ এবং শাহবাগে জমায়েত হওয়া আরেকটি অংশ, তা যাতে সফল না হয়।’
সমাবেশে ডাকসুর এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে যাদের আমরা চিনি, আমরা মনে করেছিলাম জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে তাদের ভেতরে অনুশোচনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে আমরা লক্ষ করেছি যে তাদের ভেতরে তো কোনো অনুশোচনা তৈরি হয়নি, বরং তারা শহীদ হাদিকে নিয়ে মকারি করেছে। আজকের এই আয়োজন থেকে ধিক্কার জানাই সেই প্রশাসনের কর্মকর্তাদের, সেই সব পুলিশকে, যারা আমাদের শহীদ ভাইদের নিয়ে মকারি করে।’
এ সময় ডাকসুর অন্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।