আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন জোট ৪৪ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১টি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী জোটের ঝুলিতে যেতে পারে ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল’ অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি (আইআইএলডি) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের করা জনমত জরিপে এমনটা বলা হয়েছে। তাদের এই জরিপে সহযোগিতা করেছে প্রজেকশন বিডি ও জাগরণ ফাউন্ডেশন।
আজ সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টনের একটি হোটেলে এই জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়। জরিপে দেখা গেছে, জাতীয় পার্টির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ১ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার। আর ৬ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার বলেছেন, তাঁরা কাকে ভোট দেবেন, সেই সিদ্ধান্ত এখনো নেননি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সারা দেশের ৬৩ হাজার ১১৫ জন ভোটারের ওপর জরিপটি চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ৬৩৪ জন পুরুষ, যা জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ। আর ২৬ হাজার ৯৮১ জন নারী, যা জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৪২ দশমিক ৪১ শতাংশ। বয়সভিত্তিক হিসাবে, জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের মধ্যে ২৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ বা ১৭ হাজার ৪৮১ জনের বয়স ১৮ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে।
অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন আইআইএলডির নির্বাহী পরিচালক শফিউল আলম। তিনি বলেন, গত ২১ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ১৬ দিন এ জরিপ চালানো হয়েছে। আসনগুলোয় প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়া এবং রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী জোট নিশ্চিত হওয়ার পর এ জরিপ শুরু করা হয়।
শফিউল আলম জানান, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসন এলাকায় জরিপ চালানো হয়েছে। প্রতিটি আসন থেকে পাঁচ–ছয়টি করে ইউনিয়ন ও হোল্ডিং লটারির মাধ্যমে বাছাই করে জরিপ চালানো হয়।
জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, এতে অংশ নেওয়া ৯২ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে চান। ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা ভোট দিতে যাবেন না। আর ২ দশমিক ৫ শতাংশ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।
জরিপে বলা হয়েছে, ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপি জোট স্পষ্টত এগিয়ে থাকলেও নিশ্চিত বিজয় হবে, এমন আসনে এগিয়ে রয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোট। জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, জামায়াত জোট নিশ্চিতভাবে ১০৫টি আসনে জয় পেতে পারে। অন্যদিকে বিএনপি জোটের ঝুলিতে নিশ্চিতভাবে যেতে পারে ১০১টি আসন।
জরিপের ফলাফলে ৭৫টি আসনে দুই জোটের প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। এর বাইরে ১৯টি আসনে অন্যান্য প্রার্থীরা জয় পেতে পারেন।
গণভোট প্রসঙ্গ
জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের ৭৪ দশমিক ৯ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা গণভোটের প্রতি সচেতন। আর সচেতন নন, এমন ভোটার ২৫ দশমিক ২ শতাংশ। অংশগ্রহণকারীদের ৮৯ দশমিক ৬ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে চান। আর ‘না’ ভোট দেবেন ৯ দশমিক ১ শতাংশ।