বিরোধী দলের আপত্তির মুখে মানবাধিকার অধ্যাদেশ বাতিল করে নতুন বিল পাস

আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলন করতে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। সেটি সেভাবেই পাস হয়। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরেছবি: বিটিভির ফেসবুক লাইভ থেকে

বিরোধী দলের আপত্তির মুখে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলন করতে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন, তা সেভাবেই পাস হয়।

সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

এর আগে (কুমিল্লা-৪) আসন থেকে নির্বাচিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য মো. আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) আপত্তি কণ্ঠভোটে নাকচ হয়। বিলটি পাসের ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারিকৃত অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রণীত ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার আইন পুনঃপ্রচলন হবে।

বিলটি উত্থাপনে আপত্তি তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, আজকে যাঁরা সরকারি বেঞ্চ রয়েছেন, তাঁরা চব্বিশের জুলাইয়ের আগে হলে এই বিল পাসের বিরোধিতা করতেন। এই অধ্যাদেশকে ল্যাপস করার মধ্য দিয়ে মানবাধিকার কমিশনকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘আমরা ইতিহাস থেকে কোনো শিক্ষা নিই না। এটা এই বছর পাস না করি, আগামী বছর পাস না করি, সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে হয়তো ল্যাপস করা যাবে, কিন্তু এই সংসদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পাস হবেই হবে।’

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘এই সংসদে আজকে যে পাটাতনের ওপর দাঁড়িয়ে আছি, এই সংসদ, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা, সরকারি বেঞ্চে যাঁরা উপস্থিত আছেন, প্রত্যেকে এই সংসদে আসার পথে যে ক্রান্তিকালীন পর্যায়ে অতিক্রম করে এখানে এসেছেন। এই পুরো জার্নির পেছনে যে আইন জড়িত, তা নিয়ে আপত্তি উত্থাপন করছি। এটার আলোচনার জন্য দুই মিনিট সময় অপ্রতুল।’

এ পর্যায়ে স্পিকার মাইক বন্ধ করে দিলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সংসদে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশংসা, অন্য বিষয়ে অনেক সময় অপচয় হয়। জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে তিনি আলোচনার জন্য সময় বাড়িয়ে দিতে স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

সময় বাড়িয়ে দিলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আজকে যে আইনটি পাস করার কথা বলাা হচ্ছে, তার মধ্য দিয়ে ২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশনকে রিস্টোর (পুনঃপ্রচলন) করবে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ২০০৯ সালের যে আইন রয়েছে, সেই আইনের প্রয়োগ দীর্ঘ ১৭ বছরে হয়েছে আমরা তা দেখেছি। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে “বিরোধী দল ও মতকে দমন কমিশন” হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বিএনপিকে দমন করার বৈধতা মানবাধিকার কমিশন উৎপাদন করেছে।’

হাসনাত বলেন, ‘আমরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বলতে শুনেছি, জামায়াতের নেতা-কর্মীদের গুলি করা বৈধ মানবাধিকার টিকিয়ে রাখার স্বার্থে। আমরা যদি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ২০০৯-এ যদি ফিরে যাই, আজকে যদি ২০২৫-এর অধ্যাদেশকে ল্যাপস করে দেওয়া হয়, তাহলে আমরা যে ফরওয়াডিং মুভে ছিলাম, সেখান থেকে জাতি আবারও ব্যাকওয়ার্ডে যাবে। জাতি পিছিয়ে পড়ার একটি টেক্সটবুক উদাহরণ হিসেবে এই সংসদে এটি থাকবে।’

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশন আদতে কোনো আইন নয়, এটিতে সরকারি আরেকটি দপ্তর বানানো হয়েছিল। সেখানে স্পিকারের নেতৃত্বে যে ‘সিলেকশন কমিটি’ করা হয়েছে। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, সরকারদলীয় এমপি ও একজন সচিব থাকেন। ছয় সদস্যবিশিষ্ট বোর্ডের পাঁচজনই সরকারদলীয়।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের একটি বক্তব্যের উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, ‘আমাদের এলজিআরডিমন্ত্রী (মির্জা ফখরুল ইসলাম) বলেছিলেন, এটা “বিরোধী দল দমন কমিশন” হিসেবে ফাংকশন করে। মানবাধিকার কমিশন যখন বিরোধী দল ও মত দমন কমিশন হিসেবে ফাংশন করে, আমরা যদি দেখি আদতে মানবাধিকার যেসব ক্ষেত্রে ক্ষুণ্ন হয়েছে, তা সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থা করেছে। সেখানে বিডিআর, র‍্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনী সরাসরি সংযুক্ততা আমরা দেখেছি। মানবাধিকারকে তারা ক্ষুণ্ন করেছে।’

এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশন আমরা দেখেছি। কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত পরিচালনা করতে চাইলে সেই বাহিনীর পূর্বানুমতি লাগবে, সরকারের পূর্বানুমতি লাগবে। সরকারের পূর্বানুমতি নিয়ে সরকার যে মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করবে, সেই মানবাধিকারের তদন্ত কতটা স্বচ্ছ হবে, তা এই সংসদের প্রত্যেক সদস্য তা জানেন।’

হাসনাত আবদুল্লাহকে দেওয়া ৪ মিনিট সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ফ্লোর নেন। তিনি বলেন, এই বিষয়টি স্বচ্ছ রাজনীতি ও মানুষের জীবনের নিরাপত্তার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, এ জন্য এ বিষয়ে আলোচনার জন্য আরও সময় দেওয়া দরকার। জবাবে স্পিকার বলেন, ‘আমরা অতীতে ছয়টি সংসদ দেখেছি।’

এ পর্যায়ে স্পিকার হাসনাত আবদুল্লাহকে আরও দুই মিনিট সময় বাড়িয়ে দেন।

হাসনাত বলেন, ‘আজকে যদি ২০২৪ সালের মে মাস হতো, আর এই বিলটি যদি উত্থাপন হতো, তাহলে এই সংসদে এমন কোনো সদস্য নেই যে এর বিরোধিতা করত। প্রত্যেকে এটাকে সাদরে গ্রহণ করত। আজকে সময় পাল্টিয়েছে, ২০০৮ সাল, ২০১৮ সালে আপনারা এই পাশে ছিলেন। আজকে আপনারা ওই পাশে (সরকারি দলে) গিয়েছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েছেন। আজকে এই বিলের বিরুদ্ধে আপনারা অবস্থান নিয়েছেন। চব্বিশ সালের জুলাইয়ের কোনো মাসে, ফেব্রুয়ারি-জানুয়ারি-মার্চ; তৎকালীন ফ্যাসিবাদ সময়ে যদি এই বিলটি, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি এই সংসদে তোলা হতো, সবাই চাইতেন বিলটি যেন পাস করা হয়।’

হাসনাত আরও বলেন, ‘সময় পাল্টেছে, ঋতু পরিবর্তন হয়েছে, চেয়ার পরিবর্তন হয়েছে, দিক পরিবর্তন হয়েছে। আজকে জাতীয় মানবাধিকর কমিশনের বিরুদ্ধে আমরা অবস্থান নিয়েছি। আমাদের এই অবস্থান নৈতিককতার দিক থেকে টেক্সবুক এক্সামপল হিসেবে থাকবে।’

বিরোধীদলীয় এই সদস্য বলেন, এই আইন শুধু মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। আরও দুটি অধ্যাদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটা গুম অধ্যাদেশ ও জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দায়মুক্তির অধ্যাদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। ২০২৫ সালের মানবাধিকার কমিশন ল্যাপস করার মধ্য দিয়ে আদতে বাকি দুটি অধ্যাদেশকে অর্নামেন্টাল করে ফেলা হবে।

হাসনাত আবদুল্লাহ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার পরবর্তী সময়ে এই অধ্যাদেশকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে না, সেটার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমরা ইতিহাস থেকে কোনো শিক্ষা নিই না। এটা এই বছর পাস না করি, আগামী বছর পাস না করি, সংখ্যা গরিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে হয়তো ল্যাপস করা যাবে। কিন্তু এই সংসদে জাতীয় মানবাধিকর কমিশন অবশ্যই পাস হবেই হবে।’

বিলে যা আছে

বিলে বলা হয়েছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আরও পরামর্শ ও যাচাই-বাছাই প্রয়োজন হওয়ায় ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলন করা হচ্ছে।

‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) আইন, ২০২৬’ শিরোনামের এই বিলে বলা হয়, আইনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর ২ ধারায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের মাধ্যমে রহিত হওয়া ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন একই নম্বর ও একই সালের আইন হিসেবে পুনঃপ্রচলিত হবে। আর ৩ ধারায় ২০২৪ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ এবং একই বছরের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ রহিত করার কথা বলা হয়েছে।

তবে ওই ধারায় এটাও বলা আছে, রহিত হওয়া অধ্যাদেশগুলোর অধীনে আগে যেসব কাজ করা হয়েছে বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেগুলো বৈধ বলেই গণ্য হবে।

বিলের সঙ্গে যুক্ত ‘উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতি’তে বলা হয়েছে, মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন এবং যথাযথভাবে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন করা হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের ১৬ নম্বর অধ্যাদেশের মাধ্যমে তাতে কিছু সংশোধন আনা হয়। এরপর বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ওই আইন রহিত করে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয় এবং পরে ২০২৫ সালের ৭৪ নম্বর অধ্যাদেশ দিয়ে সেই অধ্যাদেশেও সংশোধন আনা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আরও পরামর্শ গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই প্রয়োজন। সে কারণেই ওই অধ্যাদেশ রহিত করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘শূন্যস্থান না রাখতেই’ পুরোনো আইন

সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ২০২৫ সালের মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশটি চূড়ান্তভাবে বাতিল করে পুরোনো কাঠামোয় ফিরে যাওয়ার জন্য নয়, বরং আরও পরামর্শ ও যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ রাখতেই ২০০৯ সালের আইন আপাতত পুনঃপ্রচলন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিলের শুরুতেই বলা আছে, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি ‘সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সহিত অধিকতর পরামর্শ যাচাই–বাছাই’ সাপেক্ষ…।

এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের জায়গাটা যেন অসম্পূর্ণ না থাকে, ফাঁকা না থাকে, সেই কারণে আপাতত আমরা ২০০৯ সালের আইনটাকে রিস্টোর করেছি, কেউ যাতে বলতে না পারে যে বাংলাদেশে কোনো মানবাধিকার কমিশন নাই।’

২০২৫ সালের অধ্যাদেশে এমন কিছু অস্পষ্টতা আছে, যা ভুক্তভোগীর জন্যও নতুন ধরনের ভোগান্তি তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বা অভিযোগের ভিত্তিতে নিতে পারবে বলা হলেও অভিযোগ নেওয়ার পর কত দিনের মধ্যে তা অনুসন্ধান বা তদন্তে পাঠাতে হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই।

আইনমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কত দিনে শেষ হবে, তারও সময়সীমা নেই। তদন্ত শেষে কমিশন জরিমানা, ক্ষতিপূরণ, মামলা করার সুপারিশ বা নিজে বাদী হয়ে মামলা করার মতো পদক্ষেপ নিতে পারবে বলা হলেও, এসব ক্ষেত্রে কীভাবে তা কার্যকর হবে, আইনটিতে তার স্পষ্ট কাঠামো নেই।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জরিমানা কত টাকা হবে, কীভাবে আদায় হবে, কোন আইনে হবে তার কোনো গাইডলাইন এখানে দেওয়া নেই।…ক্ষতিপূরণ কত টাকা হবে, কী পরিমাণ হবে, কী গাইডলাইন হবে, কীভাবে আদায় হবে, কার কাছে যাবে, তার কোনো গাইডলাইন এই আইনের মধ্যে নেই।

তদন্ত ও শুনানি শেষে কমিশন যদি আবার নিজেই এক পক্ষের হয়ে মামলা করে, তাহলে তার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যান ইট বি কলড আ নিউট্রাল ল? ক্যান ইট বি কলড জাস্ট অ্যান্ড প্রপার ল? এই প্রশ্নগুলো যখন আমাদের সামনে আসে তখন আমাদেরকে বিলের প্রথম লাইনেই বলতে হয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সহিত অধিকতর পরামর্শ যাচাই বাছাই করা প্রয়োজন।’

গুম আইন নিয়েও ‘অস্পষ্টতা’র কথা

আইনমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের সঙ্গে গুম-সংক্রান্ত আইনগত কাঠামোর সম্পর্ক ‘স্পষ্ট নয়’। তাঁর ভাষায়, গুম আইনে তদন্তের দায়িত্ব মানবাধিকার কমিশনের ওপর থাকলেও আলাদা ‘গুম কমিশন’ গঠনের কোনো সুস্পষ্ট কাঠামো রাখা হয়নি। তাতে আইনি দ্ব্যর্থকতা তৈরি হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, আইনের এই ‘অ্যামবিগুইটি’ (অস্পষ্টতা) থাকতে পারে না। আইন স্বচ্ছ হতে হবে। আইন পরিষ্কার হতে হবে। এ কারণেই আইনটি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরামর্শের মধ্য দিয়ে নিতে হবে।

দুই আইনেই স্বায়ত্তশাসনের ধারা আছে, দাবি আইনমন্ত্রীর

বিরোধী দলের আপত্তির জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালের আইন ও ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ—দুই ক্ষেত্রেই কমিশনের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার ধারা আছে। তিনি বলেন, দুটি আইনেই বলা আছে এই কমিশন কারও কাছে দায়বদ্ধ থাকবে না।

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি কাঠামোর দিকে এগোতে চায়, যেখানে কমিশনের ক্ষমতা থাকবে, একই সঙ্গে আইনের ত্রুটিও দূর হবে।

সময় বণ্টন নিয়ে আপত্তি বিরোধীদলীয় নেতার

বিলটি পাস হওয়ার পর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সময় বণ্টনের বিষয়টি নিয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, যেসব বিলে ভিন্নমত রয়েছে, সেগুলোতে বিরোধী সদস্যদের জন্য দুই মিনিট সময় রেখে আর উত্থাপনকারীদের জন্য দীর্ঘ সময় দিলে সংসদে কার্যকর বিতর্কের সুযোগ কমে যায়।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘ডিবেট কোথায়? আমরা তো কোনো ডিবেট দেখছি না এখানে। সেই ডিবেটের সুযোগ যদি না থাকে…আমরা যদি আমাদের কথাই বলতে না পারি, আমাদেরকে আমাদের কথা বলার সুযোগ দেন।’

জবাবে স্পিকার বলেন, অতীতের সংসদীয় নজির অনুযায়ী আপত্তি উত্থাপনের সময় সাধারণত দুই মিনিটই দেওয়া হতো। তবে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সময় কিছুটা বাড়ানোর কথা বিবেচনা করা হবে।

স্পিকার বলেন, ‘যিনি আপত্তি উপস্থাপন করবেন তাকে সময় একটু বাড়িয়ে দেওয়া হবে।’