খালেদা জিয়ার নীতি অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সাহায্য করেছে: আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমান

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমানছবি: বিএনপির মিডিয়া সেলের সৌজন্যে

আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেছেন, খালেদা জিয়ার সরকারের সময় অবকাঠামো উন্নয়ন, আইনের শাসন, বিনিয়োগের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তার নীতি দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সাহায্য করেছে।

আজ শুক্রবার দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় মাহবুবুর রহমান এ কথা বলেন। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সম্পাদক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘একই সময়ে সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তাঁর (খালেদা জিয়া) কিছু উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’ এ সময় তিনি খালেদা জিয়ার শিক্ষা ও মানুষের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য নেওয়া কর্মসূচিগুলোর কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘ফুড ফর এডুকেশন, প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার, মেয়েদের পড়াশোনার সহায়তা অনেক দরিদ্র পরিবারকে নতুন আশার আলো দেখিয়েছিল। এর ফলে আরও বেশি বেশি মেয়ে স্কুলে যেতে পেরেছে এবং নারীশিক্ষা এগিয়ে গিয়েছে। আজ দেশের নারীর অংশগ্রহণ যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, এর পেছনে এই সময়ের এসব উদ্যোগ বড় ভূমিকা রাখে।’

একজন রাষ্ট্রনায়কের মূল্যায়ন কেবল ক্ষমতায় থাকাকালীন কী করেছেন, তা দিয়ে হয় না বলে উল্লেখ করে আইসিসিবির সভাপতি। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতার বাইরে থাকলেও তিনি (খালেদা জিয়া) কীভাবে সময় কাটিয়েছেন এবং সংকট মোকাবিলা করেছেন, সেটাও ইতিহাস মনে রাখে।...দেশ ও রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

‘বাংলাদেশ ছাড়া আমার কোনো ঘর নেই’—খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্য উদ্ধৃত করে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘এই কথাটা আমাদের সবাইকে মনে করিয়ে দেয় যে আমাদের ভবিষ্যৎ এই দেশের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। দেশের স্থিতিশীলতা, মানুষের আস্থা যতটা বাড়বে, আমাদের সবার সুযোগ ততটা বাড়বে। ব্যবসায়ী সমাজও এমন একটি বাংলাদেশ চায়, যেখানে নিয়মকানুন শক্ত হবে। বিশ্বাস তৈরি হবে। তরুণ প্রজন্ম সামনে এগিয়ে যাওয়ার আরও বেশি সুযোগ পাবে। বিদেশে জাতীয় সম্পদ পাচারের প্রবণতা বহুলাংশে হ্রাস পাবে।’

মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছিলেন না। তিনি পারিবারিক গণ্ডি পেরিয়ে যখন রাজনীতিতে আসেন, তখন তিনি পুরো পরিবারকে ভুলে যাননি। পুরো সমাজকে ভুলে যাননি। পুরো সিস্টেমকে ভুলে যাননি। সেখানে একটা নতুন দিগন্ত তিনি তৈরি করেছিলেন।’

শুক্রবার বেলা আড়াইটার পর কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকবার্তা পাঠ করেন দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন। এরপর সভায় একে একে বক্তব্য দেন লেখক ফাহাম আবদুস সালাম, পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, খালেদা জিয়ার চিকিৎসক এফ এম সিদ্দিকী, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী দেবাশীষ রায়, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, জ্যেষ্ঠ সম্পাদক শফিক রেহমান, লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ডিপিআইয়ের সভাপতি আবদুস সাত্তার দুলাল, সাবেক কূটনৈতিক আনোয়ার হাশিম, আইসিসি বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য ও ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ার‍ম্যান এস এম এ ফায়েজ, লেখক ও গবেষক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন। এরপর খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে স্মরণসভা শেষ হয়।

শোকসভায় যোগ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। সাবেক এই সরকারপ্রধানের স্মরণে আয়োজিত সভায় যোগ দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ, মনির হায়দার প্রমুখ। শোকসভায় যোগ দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা।