ডাকসু নির্বাচন: গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে, অভিযোগ বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ মনোনীত প্যানেল বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ। তারা বলছে, একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে ভোটকেন্দ্রগুলোকে শিক্ষার্থীদের সুবিধাজনক জায়গায় দেওয়া হয়নি।
আজ বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আবদুল কাদের এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী আবু বাকের এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আবদুল কাদের অভিযোগ করে বলেন, ডাকসু নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। একটি গোষ্ঠী ডাকসু নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, প্রশাসন থেকে মাঝেমধ্যে তাঁদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার জন্য বসা হয়। কিন্তু তাঁদের কোনো পরামর্শ গ্রহণ করা হয়নি। বর্তমান যে মেকানিজম করা হয়েছে, তাতে ৩৯ হাজার শিক্ষার্থী সবার ভোট দেওয়া সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের ভোটদানে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতেই এটি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের জিএস প্রার্থী আবু বাকের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভোট গণনার মেশিন কম থাকার অজুহাতে কেন্দ্র কম রাখা হয়েছে বলছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কালো ও নীলনকশা এঁকেছে, যাতে শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে না আসেন।
আবু বাকের বলেন, কার্জন হলের পরীক্ষাকেন্দ্রে তিনটি হলকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখানে অনেক ভবন ফাঁকা, চাইলেই অন্য ভবনে ভোট নিতে পারত। বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের কেন্দ্র দেওয়া হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে। অথচ এটিকে খুব সহজেই সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটে নিলে শিক্ষার্থীদের ভোট দিতে সুবিধা হয়। এগুলোতে ভোটকেন্দ্র করলে ভোটদানের প্রক্রিয়া আরও সহজ হতো।
হলপাড়ার শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ বা কলাভবন সহজ হয় উল্লেখ করে বাকের বলেন, কিন্তু তাঁদের কেন্দ্র দেওয়া হয়েছে উদয়ন স্কুল। অন্যদিকে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল এবং জগন্নাথ হল উদয়ন স্কুলের কাছে হলেও তাদের দেওয়া হয়েছে শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রে। শামসুন নাহার হলের কেন্দ্র আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে দেওয়া যেত। কিন্তু তাদের কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল।
ভোটদানের প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করার কথা জানিয়ে এই জিএস প্রার্থী বলেন, কার্জন হল এলাকায় শহীদুল্লাহ হল এবং অমর একুশে হলকে নতুন ২২ তলা ভবনে, ফজলুল হক মুসলিম হলকে কার্জন হলের পরীক্ষাকেন্দ্রে, বিজয় একাত্তর হল ও শেখ মুজিবুর রহমান হলের কেন্দ্রকে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে, কলাভবন এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল এবং কবি জসীমউদ্দীন হলের কেন্দ্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল এবং স্যার এ এফ রহমান হলকে, উদয়ন স্কুলে জগন্নাথ হল ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলকে দেওয়া যেতে পারে।
এদিকে নির্বাচনের আগে ও পরে মিলিয়ে (৭ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর) ভোটের দিন ছাড়া তিন দিন ছুটি থাকায় ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এ প্যানেলের এজিএস প্রার্থী আশরেফা খাতুন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভোটদানের পরদিন পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে। ফলে অনেকেই বাড়িতে চলে গেছেন। এমন পরিস্থিতিতে ভোট পুরোপুরি কাস্ট হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
তবে রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নবাব নওয়াব আলী সিনেট ভবনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন জানান, ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্বনির্ধারিত ছুটি কমানো হয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর শুধু ডাকসু নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। তবে ৭, ৮ ও ১০ সেপ্টেম্বর যথারীতি নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা চলবে।