বাংলাদেশের প্রমত্ত পদ্মা নদীতে রাতভর মাছ ধরেছেন মাঝি রিপন মৃধা। ভোরে পা ধুতে ধুতে কাছাকাছি জায়গার একটি বাজারের দোকানের দেয়াল ও শাটারে চোখ বুলিয়ে নেন তিনি।
বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের রাজবাড়ী জেলার এই এলাকায় কিছুদিন আগেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের চেহারাসংবলিত বড় বড় পোস্টার ও ব্যানার টাঙানো ছিল।
সেই সব চিহ্ন এখন আর নেই। ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের প্রায় কোনো চিহ্নই আর সেখানে চোখে পড়ে না। ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে হাসিনার সেই কঠোর শাসনের অবসান হয়। উৎখাত হওয়ার পর তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্র প্রতিবেশী দেশ ভারতে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন।
অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ওই বিক্ষোভের সময় এক হাজার চার শর বেশি মানুষ হত্যার ঘটনায় তাঁর ভূমিকার জন্য একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার করে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস হলো রাজনৈতিক বিরোধীদের বিচার করার জন্য ২০১০ সালে শেখ হাসিনা নিজে ওই ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিলেন।
হাসিনাকে উৎখাতের পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আজীবন আওয়ামী লীগের ভোটার রিপন মৃধা বলেন, তিনি যে দলকে সমর্থন করেন, সেই দলকে নিষিদ্ধ করার পর নির্বাচন নিয়ে তাঁর তেমন আগ্রহ নেই। এরপরও তিনি হয়তো ভোট দেবেন। কিন্তু ব্যালটে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক না থাকায় কোন দলকে ভোট দেবেন, তা নিয়ে এখনো দোটানায় আছেন।
প্রায় ৫০ বছর বয়সী মাঝি রিপন মৃধা জানান, পরিবারের সদস্যরা ভয় পাচ্ছেন যে ভোট না দিলে তাঁরা আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত হতে পারেন। কারণ, কয়েক দশকের হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়নের ঘটনায় হাসিনা ও তাঁর দল এখনো ব্যাপক ক্ষোভের মুখে রয়েছে।
হাসিনার শাসনামলে আওয়ামী লীগের প্রধান দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামী পদ্ধতিগত নিপীড়নের শিকার হয়েছে। জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। দলটির কয়েকজন নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে এবং অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও ছিলেন। গত ডিসেম্বরে তিনি মারা গেছেন। তাঁর ছেলে এবং বিএনপির বর্তমান চেয়াম্যান তারেক রহমান ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ডিসেম্বরেই দেশে ফিরেছেন।
বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি চলার মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত হচ্ছে। এতে নিহতের ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু এখন অন্যান্য দলের সাধারণ সমর্থকদের মতো আওয়ামী লীগের সাধারণ সমর্থকেরা রেহাই পাচ্ছেন না। নেতাদের বিগত দিনের কর্মকাণ্ডে সৃষ্ট ক্ষোভের কারণে তাঁরা রোষানলের শিকার হচ্ছেন।
রিপন মৃধা আল-জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা যদি ভোট না দিই, তাহলে আমরা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারি। সে কারণে আমাদের পরিবারের সদস্যরা ভোটকেন্দ্রে যাবে।’
যেসব এলাকায় একসময় আওয়ামী লীগ আধিপত্য ছিল, সেখানে দলটির পুরোনো সমর্থকদের সঙ্গে আলাপ করে বোঝা যায়, তাঁদের মনোভাব বিভক্ত হয়ে পড়েছে। অনেকে ভোটকেন্দ্রে যাবেন বলে জানালেও অন্যরা আদৌ ভোট দেবেন না বলে জানিয়েছেন।
গোপালগঞ্জে রিকশাচালক সোলায়মান মিয়া বলেন, তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এ বছর ভোট দেবেন না। তাঁর ভাষায়, ‘ব্যালটে নৌকা ছাড়া নির্বাচন কোনো নির্বাচন না।’ গোপালগঞ্জের অনেক বাসিন্দা তাঁর সঙ্গে একমত।
‘আওয়ামী লীগ ফিরবে’
ঢাকার কেন্দ্রস্থল গুলিস্তান এলাকায় রয়েছে আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়। সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় সেখানে ভাঙচুর ও আগুন লাগানো হয়। এর পর থেকে পরিত্যক্ত ওই ভবনে গৃহহীনেরা আশ্রয় নিয়েছেন। ভবনের কিছু অংশ গণশৌচাগার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
কার্যালয়ের বাইরে হকার আবদুল হামিদ বলেন, কয়েক মাস ধরে এই এলাকার আশপাশে আওয়ামী লীগের কর্মীদের দেখেননি। তিনি বলেন, ‘আপনি এখানে আওয়ামী লীগের কোনো সমর্থককে পাবেন না। কেউ সমর্থক হলেও তা কখনো স্বীকার করবে না। আওয়ামী লীগ আগেও সংকটে পড়েছে, কিন্তু কখনো এ রকম প্রায় অদৃশ্য হয়ে যায়নি।’
কাছেই আরেকজন হকার সাগর, উলের তৈরি মাফলার বিক্রি করছেন, যেগুলোতে বিএনপি এবং তার সাবেক মিত্র ও বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক রয়েছে।
সাগর বলেন, ‘এই দলগুলোর মাফলার ভালোই বিক্রি হচ্ছে।’
তবু এরপর আওয়ামী লীগ কিছু সমর্থক দলের ফিরে আসার বিষয়ে আশাবাদী।
ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আরমান বলেন, ‘দল হয়তো কৌশলগত নীরবতা পালন করে থাকতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাওয়া অনেক দূরের বিষয়।’
আরমান আল–জাজিরাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে। আর যখন ফিরবে, শেখ হাসিনাকে নিয়েই ফিরে আসবে।’
তবে ঢাকার রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জোবান ম্যাগাজিনের সম্পাদক রেজাউল করিম রনি এতটা নিশ্চিত নন। তিনি মনে করেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের টিকে থাকা কঠিন হবে।
রেজাউল করিম রনি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘যদি আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচন হয়ে যায়, তাহলে তাদের ভোটাররা ধীরে ধীরে স্থানীয় পর্যায়ে একধরনের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে। তারা স্থানীয়ভাবে মিশে যাবে, যে দল বা শক্তি তাদের এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করবে, তাদের সঙ্গে মিশে যাবে। এভাবে তারা দৈনন্দিন জীবন সাজাতে শুরু করবে।’
রেজাউল করিম বলেন, এতে একবার নির্বাচন হয়ে গেলে আওয়ামী লীগের জন্য তার সমর্থকদের ফিরে পাওয়া কঠিন হবে। তিনি বলেন, যদিও দলের সমর্থকদের একটি অংশ এখনো হাসিনা ছাড়া দলের ভবিষ্যৎ দেখতে পান না, তারপরও দলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তাঁর শাসনামলে কর্তৃত্ববাদী শাসনের কারণে হতাশ।
রেজাউল করিম বলেন, ‘সমর্থকেরা বিভক্ত থাকায়, হাসিনা থাকুক বা না থাকুক, আওয়ামী লীগের জন্য আগের রাজনৈতিক অবস্থানে ফিরে আসাটা অত্যন্ত কঠিন—প্রায় অসম্ভব।’
‘রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন মনে হচ্ছে’
অন্য বিশ্লেষকেরা যুক্তি দিচ্ছেন, আপাতবিরোধী মনে হলেও জামায়াতে ইসলামীর জনসমর্থনের সাম্প্রতিক জোয়ারে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ পুনরুত্থানে একধরনের প্রাসঙ্গিকতা পাওয়া যেতে পারে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় জামায়াত পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল। শেখ হাসিনাসহ দলটির সমালোচকেরা তাদের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বারবার এই ভূমিকার কথা টেনে আনছেন।
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে দুবার নিষিদ্ধ হয়েছিল। শেখ হাসিনার শাসনামলে দলটির শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি হয়েছিল ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবু দলটি টিকে আছে এবং জনমত জরিপ অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তারা তাদের ইতিহাসের সেরা ফলাফল করার সন্ধিক্ষণে রয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ আল-জাজিরাকে বলেন, ‘জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক তৎপরতা, প্রভাব ও দৃঢ় অবস্থান, যাকে এমনকি আধিপত্যের প্রদর্শন বলা যেতে পারে, তা বিস্ময়করভাবে আওয়ামী লীগের জন্য একধরনের আশীর্বাদ হিসেবে দেখা যেতে পারে।’
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষের আগ্রহ দলটির আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক কাঠামোর চেয়েও অনেক গভীরে বিস্তৃত। ফলে রাজনীতি থেকে দলটির পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মানে শুধু দলটির নেতৃত্ব নয়। দলটি সাংস্কৃতিক, সামাজিক এবং অন্যান্য শক্তির সঙ্গেও যুক্ত।
গণতান্ত্রিক শাসন নিয়ে কাজ করা মার্কিন চিন্তন প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) একটি নির্বাচনপূর্ব জরিপ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের এখনো প্রায় ১১ শতাংশ জনসমর্থন রয়েছে।
যদিও চলমান নির্বাচনী প্রচারে দলটির কোনো উপস্থিতি নেই। বরং তাদের নেতাদের ভারত থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করতে দেখা গেছে। এর মধ্যে নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র বাঁচান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার একটি বিতর্কিত ভাষণও রয়েছে। এটি ছিল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর প্রথম বক্তব্য।
আগে ধারণ করা অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতীয় শত্রুর এই বিদেশি আজ্ঞাবহ পুতুল সরকারকে যেকোনো মূল্যে উৎখাত করতে বাংলাদেশের সাহসী ছেলে–মেয়েদর অবশ্যই শহীদের রক্তে লেখা সংবিধান রক্ষা ও পুনর্বহাল করতে হবে। আমাদের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করতে হবে, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে এবং গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।’
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এ ধরনের একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় তারা ‘স্তম্ভিত ও মর্মাহত’।
দেশের মাটিতে শেখ হাসিনার দল তাদের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে, যা দলটির টিকে থাকা নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান যুক্তি দেখিয়েছেন, কঠোর গণতান্ত্রিক মানদণ্ডে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে ছাড়া কোনো নির্বাচন পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি বলেন, এটি এমন নির্বাচন হবে, যার পাশে একটি ‘দাগ বা প্রশ্নচিহ্ন’ থেকে যাবে।
একই সঙ্গে কুগেলম্যান বলেন, শেখ হাসিনার তদারকিতে চালানো দমন-পীড়ন এবং নির্বাচনী মাঠ নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার অতীতের অপচেষ্টার কারণে অনেক বাংলাদেশির চোখে আওয়ামী লীগ একটি বৈধ রাজনৈতিক দল হিসেবে গণ্য হওয়ার অধিকার হারিয়েছে।
২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনা নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছিলেন। এসব নির্বাচনে কারসাজি হয়েছিল বলে ধরে নেওয়া হয়। বিরোধী দলগুলো এসব নির্বাচন বর্জন করে এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল।
তবু কুগেলম্যান মনে করেন, দক্ষিণ এশিয়ার বংশানুক্রমিক রাজনৈতিক দলগুলোর বৈশিষ্ট্য এমন যে তারা খুব কমই বিলুপ্ত হয়।
কুগেলম্যান আল–জাজিরাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এখন খুব খারাপ অবস্থায় থাকলেও এবং বাংলাদেশে তারা রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছিটকে পড়লেও ভবিষ্যতে তাদের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের বিষয়টিকে অবশ্যই উড়িয়ে দেওয়া উচিত হবে না। রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুব দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে।’
আওয়ামী লীগের বর্তমান সংকটকে দলটির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির দুঃসময়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন কুগেলম্যান। হাসিনার শাসনামলে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি কার্যকর কোনো রাজনৈতিক বা নির্বাচনী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হিমশিম খাচ্ছিল, বর্তমানে ক্ষমতার সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দলটি ফিরে এসেছে।
কুগেলম্যান বলেন, আওয়ামী লীগ সম্ভবত একটি ‘অপেক্ষা করার কৌশল’ অবলম্বন করবে। যত দিন শেখ হাসিনা রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবেন, তিনি হয়তো ‘রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যেই থাকতে’ চাইবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন।
কুগেলম্যান বলেন, ‘এতে সময় লাগতে পারে। এই অঞ্চলের রাজনীতির ধরন বিবেচনা করলে দেখা যায়, তা বেশ অস্থির ও পরিবর্তনশীল। ভবিষ্যতে যদি কোনো সুযোগ তৈরি হয় এবং আওয়ামী লীগ একটি কার্যকর রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মাঠে নামার মতো অবস্থানে পৌঁছাতে পারে, তবে দলটি ভালোভাবে ফিরে আসতে পারে। তবে আপাতত দলটি কার্যত পুরোপুরি স্থবির বা অকার্যকর হয়ে পড়েছে।’
রাজবাড়ীর সেই নৌকাচালক মৃধার জন্য এটি কোনো স্বস্তির কিছু নয়, নিজ দলের ভবিষ্যৎ ঘিরে এই অনিশ্চয়তা তাঁকে খুবই বিচলিত করে তুলেছে।
১৯৭৫ সালে সেনা অভ্যুত্থানে শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে মৃধা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু (শেখ হাসিনার বাবাকে ভালোবেসে এ নামে ডাকা হয়) সপরিবার নিহত হওয়ার পর আওয়ামী লীগ কীভাবে টিকে থাকার লড়াই করেছিল, সে কথা আমার বাবা প্রায়ই বলতেন।’ ওই ঘটনা আওয়ামী লীগকে প্রথমবারের মতো বড় সংকটে ফেলেছিল।
‘তবে এই বছরটি রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার মতো মনে হচ্ছে,’ বলেন মৃধা।