আচরণবিধি লঙ্ঘনে কমিশনের নীরবতা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বাধা: নজরুল ইসলাম খান

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান। গুলশান, ঢাকা; ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেলের সৌজন্যে

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেন, নির্বাচন কমিশনের চোখের সামনে এসব ঘটলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুলশান-২ নম্বরে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা অফিসে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন নজরুল ইসলাম খান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, অন্য দলগুলোর উল্লেখযোগ্য নেতা, গুরুত্বপূর্ণ নেতা, এমনকি প্রধান নেতারা পর্যন্ত নির্বাচনের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের চোখের সামনে এসব ঘটলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

নির্বাচনী আচরণবিধি প্রয়োগে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপির সাধারণ প্রার্থী বা পরিবারের সদস্যদের ছোটখাটো ঘটনায় শোকজ (কারণ দর্শানো) করা হলেও অন্য দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের ক্ষেত্রে একই আচরণ দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমরা আইন মেনে নিতে প্রস্তুত, কিন্তু তা সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হতে হবে।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে বিএনপি নিজেদের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সফরও স্থগিত করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা নেবে এবং সব রাজনৈতিক দল আচরণবিধি মেনে চলবে।

নজরুল ইসলাম খান আরও অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে দরিদ্র ও কম শিক্ষিত ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি, মোবাইল নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে। এ ধরনের তথ্য সংগ্রহের পেছনে ভুয়া এনআইডি তৈরি করে জাল ভোট দেওয়া এবং অর্থের মাধ্যমে ভোটারদের প্রলুব্ধ করার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও নির্বাচন কমিশন এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তিনি এসব কার্যক্রমকে ‘অনৈতিক, বেআইনি ও সুষ্ঠ নির্বাচনের পথে প্রতিবন্ধকতা’ বলে উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে পোস্টাল ব্যালট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পোস্টাল ব্যালট–ব্যবস্থা চালু বিএনপিরই দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধিত, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ প্রবাসী। অনেক আসনে এই ভোটের সংখ্যা বিজয় নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।

নজরুল ইসলাম খানের অভিযোগ, প্রবাসীদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে প্রতীক বিন্যাস এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ মাঝামাঝি ও ভাঁজের স্থানে পড়ে অস্পষ্ট হয়ে যায়। তিনি বলেন, এটা কোনো দৈব ঘটনা নয়, এটা উদ্দেশ্যমূলক। নির্বাচন কমিশনের কাছে ব্যালট পুনর্মুদ্রণ ও সংশোধনের দাবি জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

পোস্টাল ব্যালটের অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে বাহরাইন ও ওমানের দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন নজরুল ইসলাম খান, যেখানে একাধিক ব্যালট পেপার একসঙ্গে নিয়ে কাজ করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ব্যালট পেপার ভোটারের আমানত; অন্য কারও হাতে থাকা সম্পূর্ণ বেআইনি। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে পুরো পোস্টাল ব্যালটের প্রক্রিয়াই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়, যাতে জনগণ নির্বিঘ্নে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এবং নির্বাচনের ফল নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।