ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে হাইকোর্টে চার প্রার্থী

হাইকোর্ট ভবনছবি: প্রথম আলো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারটি আসনে ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে চারজন প্রার্থীর করা পৃথক চারটি নির্বাচনী আবেদন শুনবেন হাইকোর্ট। এই চার আবেদনের ওপর পৃথকভাবে শুনানি হবে আগামী এপ্রিল ও মে মাসে। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

আবেদনকারী চারজন প্রার্থীর মধ্যে একজন বিএনপির ও অপর তিনজন জামায়াতে ইসলামীর। যে চার আসনে ভোটে কারচুপির অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো হলো শেরপুর-১, ঢাকা-৬ ও ৭ এবং গাইবান্ধা-৪।

আবেদনকারী চার প্রার্থী হলেন শেরপুর-১ আসনে বিএনপির সানসিলা জেবরিন, ঢাকা–৬ আসনে জামায়াতের মো. আবদুল মান্নান, ঢাকা–৭ আসনে জামায়াতের মো. এনায়াত উল্লা ও গাইবান্ধা-৪ আসনে জামায়াতের মো. আবদুর রহিম সরকার।

নির্বাচনসংক্রান্ত আবেদনপত্র গ্রহণ ও শুনানির জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে একক বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন প্রধান বিচারপতি। ওই একক বেঞ্চের আজকের কার্যতালিকায় চারটি নির্বাচনী আবেদন মোশন (নতুন মামলা) হিসেবে ছিল। আদালতে জামায়াতে ইসলামীর তিন প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির। বিএনপির প্রার্থী সানসিলা জেবরিনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রাহেমীন চৌধুরী।

বিএনপির প্রার্থীর আইনজীবী রাহেমীন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, শেরপুর-১ আসনের ফলাফল বাতিল এবং আবার নির্বাচন চেয়ে আবেদনটি করা হয়েছে। হাইকোর্ট আবেদন শুনানির জন্য ২০ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন। এর মধ্যে বিজয়ী প্রার্থীসহ বিবাদীদের প্রতি নোটিশ জারি করতে আদেশ দিয়েছেন।

শেরপুর-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. রাশেদুল ইসলাম ১ লাখ ৩০ হাজার ৯৮৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সানসিলা জেবরিন ৭৭ হাজার ৫২১ ভোট পান।

গেজেট প্রকাশের পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তিনি হাইকোর্টে নির্বাচনী আবেদন করতে পারেন। এখন পর্যন্ত জামায়াতের তিন প্রার্থী আবেদন হাইকোর্ট শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন।

ওই তিন প্রার্থীর মধ্যে ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. আবদুল মান্নান ৫৫ হাজার ৬৯৭ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন। ঢাকা-৭ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. এনায়াত উল্লা পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৪৮৩ ভোট পেয়েছেন। এখানে ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমান।

আর গাইবান্ধা-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. আবদুর রহিম সরকার ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৩৮ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ শামীম কায়সার ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

জামায়াতের তিন প্রার্থীর আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির প্রথম আলোকে বলেন, আবেদন তিনটি (ঢাকা-৬, ৭ ও গাইবান্ধা-৪) গ্রহণ করে হাইকোর্ট শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। তিনটি আবেদনের ওপর ৩ মে ও ১০ মে শুনানি হতে পারে।