সংসদে হাস্যরস হলেও হামের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি: রুহিন হোসেন প্রিন্স
জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দল অনেক অপ্রয়োজনীয় হাস্যরসের কথা বলে সময় নষ্ট করলেও হামে শিশুমৃত্যুর মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। তিনি বলেছেন, হামে আক্রান্ত অনেক শিশু পর্যাপ্ত আইসিইউ সাপোর্ট না পেয়ে মারা গেছে। সরকার আইসিইউ সাপোর্ট দেওয়ার জন্য পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে অনেক শিশুর মৃত্যু এড়ানো যেত।
আজ শনিবার রাজধানীর পুরান পল্টন মোড়ে এক বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়ে রুহিন হোসেন এ কথা বলেন। হামে তিন শতাধিক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ ‘জড়িতদের’ অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হাম প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় সর্বাত্মক ব্যবস্থার দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে সিপিবির পল্টন শাখা।
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যুতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সিপিবির নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স। তিনি বলেন, ইউনূস সরকারের গাফিলতিতে এ ঘটনা ঘটছে বলে বিশেষজ্ঞরা তথ্যপ্রমাণসহ বলেছেন। সিপিবির নেতা রুহিন হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে অনেক দিন ধরে বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছে, অথচ ইউনূস সরকারের অবহেলায় এ শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। সরকার রহস্যজনক কারণে দোষীদের বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে। এ জন্য ইউনূস সরকার ও সেই সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেন তিনি।
রুহিন হোসেন বলেন, দেশে বেকারত্ব ও দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। চিকিৎসা নিতে জায়গা–জমি বেচার কারণে প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়ে যাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যনিরাপত্তায় পর্যাপ্ত সরকারি হাসপাতাল গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যব্যবস্থা বেসরকারীকরণের নামে অপ্রয়োজনীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও মানহীন হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। এগুলো দেখার কেউ নেই। তিনি চিকিৎসার নামে ব্যবসা কঠোরভাবে নিষিদ্ধের দাবি জানান।
এ বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে সিপিবির ঢাকা মহানগরের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ত্রিদিব সাহা, পল্টন থানা শাখার সভাপতি মুর্শিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াত প্রমুখ বক্তব্য দেন।