ভোটের হিসাব নিয়ে তোমরা ঘরে ফিরবা: তরুণ-যুবকদের উদ্দেশে জামায়াত আমির

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। আজ বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সেছবি: প্রথম আলো

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জনগণের আকাঙ্ক্ষার এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে পরিণত হোক, সেই প্রত্যাশা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘অতীতের মতো কোনো নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিং আমরা দেখতে চাই না। এটা আমরা একেবারেই বরদাশত করব না, ইনশা–আল্লাহ। যেকোনো ধরনের কারচুপি, ভোট ডাকাতি এবং ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান হবে স্পষ্ট।’

আজ বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির এসব কথা বলেন। জামায়াতসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ঐক্যের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার জন্য এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মুখ্য বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনটা জনগণের আকাঙ্ক্ষার নির্বাচনে ও সুষ্ঠু নির্বাচনে পরিণত হোক। সেই সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি সোনালি সমাজ বিনির্মাণের নতুন অধ্যায় রচনা হোক।’

দেশের যে যুবসমাজ তিন–তিনটা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার বয়স হওয়া সত্ত্বেও একটা ভোটও দিতে পারেনি, তাদের ভোট নিশ্চিত করতে চান বলে উল্লেখ করে জামায়াত আমির। যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমাদের ভোট তোমরা দেওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে আসবা এবং তোমাদের ভোটের হিসাব নিয়ে তোমরা ঘরে ফিরবা। আমরা তোমাদের সঙ্গে থাকব, ইনশা–আল্লাহ।’

৫৪ বছরের রাজনীতির ‘ঘুণে ধরা অবস্থা’ থেকে জাতির মুক্তির আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্যই ১১টি দল একত্র হয়েছে বলে দাবি করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা ওই পুরোনো রাজনীতিটা আর চাই না। যে রাজনীতি ফ্যাসিবাদ হয়ে জাতির ঘাড়ে চেপে বসে, সেই রাজনীতি আমরা একেবারেই চাই না। খুনের রাজনীতিতে আমরা আর ফিরে যেতে চাই না। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত যে রাজনীতি, সেই রাজনীতি আমরা আর দেখতে চাই না। আমরা সত্যিকার অর্থেই জন–আকাঙ্ক্ষা এবং বিশেষভাবে আমাদের তরুণদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশটাই দেখতে চাই।’

জনগণের সমর্থন চেয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আপনারা যে পরিবর্তন চান, সেই পরিবর্তন করার দায়িত্ব নিয়ে আমরা ময়দানে নেমেছি। আমরা আশা করব, আপনারা সবকিছু দিয়ে আমাদের পাশে থাকবেন, সমর্থন জোগাবেন, ভালোবাসবেন এবং জনগণের বিজয় নিশ্চিত করবেন।’

ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবি

এই নির্বাচনী ঐক্য গঠনে যাঁদের অবদান আছে, তাঁদের সবাইকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বিশেষভাবে স্মরণ করি ১৯৪৭, ১৯৭১, ২০২৪ সালসহ জাতির টার্নিং পয়েন্টে জাতির জন্য যাঁরা জীবন দিয়েছিলেন, যাঁরা লড়াই করে আহত হয়েছেন এবং যাঁরা বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন দফায় দফায়। আমরা সবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কৃতজ্ঞ এবং সবার ঋণ আমরা পরিশোধ করতে চাই। একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমেই এই ঋণ পরিশোধ করতে চাই। যে দেশটা হবে আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্ত।’

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকেও বিশেষভাবে স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘সে ছিল বাংলাদেশের জনগণের জীবন্ত কণ্ঠ। সে নিজেই ছিল একটা বিপ্লব, একটা বিপ্লবের আইকন। তাকে কারা হত্যা করেছে, জনগণ তা বোঝে। আমরা তার হত্যার বিচার চাই। এই বিচারটা যদি জনগণ দেখতে পায়, তাহলে জাতির জন্য জীবন উৎসর্গ করতে আরও অনেকেই এগিয়ে আসবে। কিন্তু এই বিচারকে যদি ধামাচাপা দেওয়া হয়, তাহলে এ দেশে বিপ্লবীর জন্ম হবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এরপর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের বক্তব্য দেন। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন। মঞ্চে ছিলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির সরওয়ার কামাল আজিজী, বিডিপির সভাপতি এ কে এম আনোয়ারুল হক, জাগপার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাশেদ প্রধান প্রমুখ।