কেউ যাতে নির্বাচন নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি না করে: জামায়াত নেতা জুবায়ের
তিন দাবিতে নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান জামায়াত পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন দলটির প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেছেন, ‘আমরা আশা করব যে সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচনের জন্য যাতে আমরা সবাই সহযোগিতা করি, কোনো ধরনের কোনো সমস্যা যাতে আমরা তৈরি না করি।’
আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় সাংবাদিকের করা এক প্রশ্নের জবাবে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এসব কথা বলেন।
ছাত্রদলের নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচির বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, মিডিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের সামনে একটি ছাত্রসংগঠনের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পেরেছে জামায়াত। সেই সংগঠন কিছু দাবি জানাচ্ছে। সামনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হবে, একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন, আরেকটি গণভোট। এই নির্বাচনে প্রবাসীরা প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। জামায়াত আশা করে, নির্বাচন কমিশন এ ক্ষেত্রে দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিচয় দেবে।
ছাত্রদলের অবস্থানের কারণে নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে কি না—জানতে চাইলে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, নির্বাচন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বাধাগ্রস্ত না হয়, এমন কোনো কাজ যাতে কেউ না করে।
ফাঁকা থাকা ৪৭টি আসন বণ্টনের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ১০ দলের লিয়াজোঁ কমিটি এ বিষয়ে আলোচনা করে জানাবে। আজ বা আগামীকাল এই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
নির্বাচন কমিশনের একটি প্রজ্ঞাপনের কারণে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়েছে উল্লেখ করে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, কমিশনের এমন কাজ এখন করা ঠিক নয়, যা অস্থিরতা তৈরি করবে। এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে মানুষ ক্ষুব্ধ না হয়। নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ থেকে কোনো বিশেষ দলের প্রতি না হেলে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের নির্বাচনী সফরসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে জানিয়ে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ২২ জানুয়ারি জামায়াত আমিরের নির্বাচনী সফর শুরু হবে। সেদিন ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন আসনে আমিরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা থাকবেন। ১০ দলের নির্বাচনী ঐক্যে থাকা দলগুলোও সেখানে থাকবেন। ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি জামায়াত আমির উত্তরবঙ্গে যাবেন। ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁর সফরসূচি চূড়ান্ত করে দ্রুতই জানানো হবে।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সব দল যাতে একই দিনে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে। এতে জনগণের আগ্রহ থাকবে এবং তারা বুঝতে পারবে, কার কী বক্তব্য। ভিন্ন দিনে হলে ইশতেহার নকল করার অভিযোগ ওঠে। ইসি এই প্রস্তাবে রাজি না হলে আলাদা করে সুবিধামতো সময়ে জামায়াত ইশতেহার ঘোষণা করবে।
নির্বাচনী ঐক্যে থাকা ১০ দলের ইশতেহার একই হবে কি না—জানতে চাইলে এই জামায়াত নেতা বলেন, আপাতত নিজ নিজ দল থেকে ইশতেহার করা হচ্ছে। লিয়াজোঁ কমিটি ও দলগুলোর শীর্ষ নেতারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।