এবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের ‘র্যাগিংবিরোধী’ শোভাযাত্রা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) র্যাগিং ও যৌন নিপীড়নবিরোধী শোভাযাত্রা করেছে ছাত্রলীগের একাংশ। সোমবার বিকেলে এই শোভাযাত্রায় সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রেজাউল হকের অনুসারী চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার (সিএফসি) ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনের অনুসারী সিক্সটি নাইন উপপক্ষের নেতা–কর্মীরা অংশ নেন।
আগের দিন রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেইন অ্যাগেইনস্ট র্যাগিং অ্যান্ড সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট ইন ক্যাম্পাস’ (ক্যাম্পাসে র্যাগিং ও যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক প্রচার) শীর্ষক সমাবেশ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এ সমাবেশের আগে নির্যাতন ও যৌন হয়রানিবিরোধী প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন নিয়ে মধুর ক্যানটিন থেকে পদযাত্রা বের করা হয়।
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ আসার পর র্যাগিংবিরোধী কর্মসূচির ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সোমবার ও মঙ্গলবার র্যাগিং এবং যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে কর্মসূচি আয়োজন করতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতা–কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীদের র্যাগিং ও যৌন হয়রানিতে অভিযুক্ত ছিলেন সংগঠনটির নেতা–কর্মীরা।
চবি ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন আছে। যে অপরাধ করবে, সাংগঠনিক পরিচয়ে না গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনকেই সরাসরি ব্যবস্থা নিতে হবে। র্যাগিং–যৌন নিপীড়ন ফৌজদারি অপরাধ। ক্যাম্পাসে এ ধরনের অপরাধ বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।
সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বলেন, অপরাধীর পরিচয় অপরাধী। অপরাধী যদি রাজনৈতিক দলের সমর্থক হন, এর দায় দলের নয়। এখন পর্যন্ত ছাত্রলীগের কোনো নেতার বিরুদ্ধে তিনি র্যাগিং কিংবা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ পাননি। যদি এমন অভিযোগ পান, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবেন।
গত বছর প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে চার ঘণ্টা আটকে রেখে র্যাগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল চবি ছাত্রলীগের উপপক্ষ এপিটাফের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে। এর আগে ২০২১ সালে দুই ভর্তি পরীক্ষার্থীকে র্যাগ দেওয়ার নামে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছিল ছাত্রলীগের উপপক্ষ সিক্সটি নাইনের কর্মীদের বিরুদ্ধে।
এরও আগে ২০১৯ সালের ২৬ অক্টোবর এক ভর্তি পরীক্ষার্থীকে র্যাগ দেওয়ার ঘটনায় ছাত্রলীগের তিন কর্মীকে আটক করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। আটক ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তাঁরা ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীর শার্ট খুলে এরপর নামতা পড়তে নির্দেশ দিয়েছিলেন।