অকারণে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ না করার আহ্বান

ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (এফএসডিএস) আয়োজিত বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠান। শাহবাগের ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলেছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

নির্বাচনের ফল বের হওয়ার পর তা মেনে নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ। তিনি বলেছেন, ফল ঘোষণার পর অকারণে সেই ফলাফলকে কোনো দল যেন প্রশ্নবিদ্ধ না করে।

আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। মতবিনিময় সভার আয়োজন করে ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস (এফএসডিএস)। এতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ–উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এটা একটা শুভ লক্ষণ। নির্বাচনটি সুষ্ঠু, সুন্দর, অংশগ্রহণমূলক ও বিতর্কমুক্ত হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, সবার মনে একটি চিন্তা ছিল যে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেই, তাই ভোটার টার্নআউট (ভোট পড়া) কত হবে। তবে তিনি মনে করেন, ভালো নির্বাচনের জন্য যতটুকু হওয়া সম্ভব, ততটুকুই ভোটার উপস্থিতি হবে। এই হার ৬০ শতাংশের কম হবে না।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও সাবেক রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের অন্যতম বড় ফল হলো মানুষ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। দেশের পাঁচ কোটির বেশি তরুণ ভোটার গত তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। তাই আগামীকাল তাদের জন্য ঐতিহাসিক দিন। তিনি আশাবাদী যে আগামীকালের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে এবং নির্বাচনের ফলাফল যা–ই হোক না কেন, জনগণ তা সাদরে গ্রহণ করবে।

ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, জনগণ খুশির সঙ্গে তাদের মেনে নেবে। কারণ, জনগণের রায়ের ওপর কোনো রায় নেই। তিনি বলেন, ‘প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অন্তর যদি জনগণ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেত, তাহলে আমাদের দেশের আজকে এই দুরবস্থাটা হতো না।’

মতবিনিময় সভায় সূচনা বক্তব্য দেন এফএসডিএসের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মানুষের কাছে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের শুভ সুযোগ এসেছে। বিশাল সংখ্যক তরুণ ভোটার, যাদের সংখ্যা মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি, তাদের জন্য এই নির্বাচন একটি উৎসবমুখর ও ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচনে যাঁরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন, তাঁরা তাঁদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন। জনগণের রায়ে দেশে একটি সুন্দর সরকার ও প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যধাপক সুকোমল বড়ুয়া, গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী, সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা, সাবেক জেলা জজ ইকতেদার আহমেদ, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মাজহারুল হকসহ অনেকে।