তিন ইস্যুতে দ্বিতীয় দিনের মতো ছাত্রদলের ইসি ঘেরাও
পোস্টাল ব্যালটে পক্ষপাতের অভিযোগসহ তিনটি ইস্যুতে আজ সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি পালন করছেন ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা। তাঁরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
গতকাল রোববার বেলা ১১টা থেকে রাত প্রায় ৮টা পর্যন্ত রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসির সামনে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিয়ে একই কর্মসূচি পালন করেন।
গতকাল রাতে কর্মসূচি শেষ করার আগে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ঘোষণা দিয়েছিলেন, একই ইস্যুতে আজও তাঁরা ইসির প্রধান কার্যালয় ঘেরাও করবেন।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দ্বিতীয় দিনের মতো ইসি ঘেরাও কর্মসূচি শুরু করেন ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা।
কর্মসূচিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগঠনটির কমিটির কয়েক হাজার নেতা–কর্মী অংশ নিচ্ছেন।
ছাত্রদলের তিনটি ইস্যু হচ্ছে—
১. পোস্টাল ব্যালট–সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নির্বাচনপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
২. বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে ইসি, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
৩. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে ইসি নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।
আজ সরেজমিন দেখা যায়, ইসির প্রধান ফটকের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছেন। ব্যারিকেডের সামনের সড়ক আটকে অবস্থান নিয়েছেন ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা। তাঁরা দাবির পক্ষে স্লোগান দিচ্ছেন। আর ছাত্রদলের নেতারা বক্তব্য দিচ্ছেন।
কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।
গতকাল প্রায় ৯ ঘণ্টা ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা ইসির সামনে অবস্থান করেন। একপর্যায়ে বিকেল ৫টার দিকে ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ইসির সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে তারা কমিশনের কাছে তিন ইস্যু নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরে।
ছাত্রদলের নেতারা বলছেন, ইসি থেকে তাঁদের আশ্বস্ত করা হলেও দাবি আদায় না হওয়ায় তাঁরা আজ আবার কর্মসূচি পালন করছেন।