বাংলাদেশ মিশনগুলোতে শিক্ষা কূটনীতি সেবা চালুর প্রস্তাব সংসদীয় কমিটির
বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে ‘শিক্ষা কূটনীতি সেবা’ চালু করা এবং নারী শ্রমিকদের জন্য বিশেষ জরুরি হটলাইন চালুর প্রস্তাব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আজ রোববার সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আজ বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছিল কমিটির প্রথম বৈঠক।
বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাংগঠনিক কাঠামো, কার্যপরিধি ও চলমান কার্যক্রম, গত ছয় মাসের কার্যক্রম ও অর্জন এবং আগামী ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করণীয় কী হতে পারে, তা পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার জন্য নির্ধারণ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরসহ পররাষ্ট্রসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে বাংলাদেশের অর্জন ও সক্রিয় অংশগ্রহণকে সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। তবে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কমিটিকে নতুন কোনো তথ্য জানানো হয়নি। ১৬ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিবৃতি দিয়ে যে অবস্থান তুলে ধরেছিলেন, সেটিই বৈঠকে তুলে ধরা হয়। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এ জন্য ভারতের কাছে দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীকে দ্রুত ফেরত পাঠাতে এবং শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার আসামিদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বৈঠকে জানানো হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সেটাই অবস্থান। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার্থীরা পড়তে যান। কমিটির সুপারিশ ছিল শিক্ষার্থীদের সেবা দেওয়ার জন্য আলাদা সেবা বা ডেস্ক চালু করা যায় কি না। যাতে শিক্ষার্থীরা বিশেষভাবে সহায়তা পান।
জহরত আদিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, আমানউল্লাহ আমান, হুমাম কাদের চৌধুরী, এস কে আজিজুল বারী, সাঈদ আল নোমান, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, সানজিদা ইসলাম, সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও আতিকুর রহমান মোজাহিদ। কমিটির সভাপতির বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও পূর্বনির্ধারিত বিদেশ সফরে থাকায় তিনি বৈঠকে উপস্থিত হতে পারেননি।
অর্থের সংসদীয় কমিটির বৈঠক
এর আগে দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নিয়ে আলোচনা হয়। এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে হিসাবরক্ষণ ও আর্থিক প্রতিবেদনব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক করা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে সরাসরি যোগাযোগের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া সরকারের ব্যয় নির্বাহে এনবিআরের সক্ষমতা, কর-জিডিপি অনুপাতের ব্যবধান কমাতে গৃহীত পদক্ষেপ এবং এনবিআরের সাংগঠনিক কাঠামো নিরূপণ ও করণীয় বিষয়ে এনবিআরের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
বৈঠক শেষে হাসনাত আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, এনবিআরের কাঠামোগত সংস্কার, ট্যাক্স–জিডিপি নিয়ে আলোচনার কথা ছিল। অর্থমন্ত্রী ইতিবাচক ছিলেন। কিন্তু বৈঠক শুরু হতে না হতে সরকারদলীয় একাধিক সদস্য বৈঠক তাড়াতাড়ি শেষ করে আরেক দিন আলোচনার কথা বলেন। কোনো আলোচ্য সূচিই শেষ করা হয়নি, কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। সরকারদলীয় কিছু সদস্য এই কমিটিকে আলংকারিক কমিটি হিসেবে নিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, জালাল উদ্দিন, মঈনুল ইসলাম খান, শাহাদাত হোসেন, সাইফুল আলম, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এবং মো আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ)।