এ পর্যন্ত ২৩ হাজার ৮৬৫টি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার: সংসদে আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের নামে কতটি মামলা দায়ের হয়েছে, সে–সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই। তবে রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা এ পর্যন্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আলী আছগারের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।
বেলা ১১টায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী মৌখিক উত্তর দেওয়ার জন্য প্রশ্ন-উত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আলী আছগার আইনমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, সারা দেশে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের নামে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় হয়রানিমূলক কতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলো প্রত্যাহার করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না।
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলা দায়ের করার সময় এজাহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় উল্লেখ থাকে না। ফলে সারা দেশে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো মিথ্যা ও হরানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করা সম্ভব নয়। এ–সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই।
তবে আইনমন্ত্রী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে বলেছেন, ২০০৭ থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে।
২৩ হাজার ৮৬৫ রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার
আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ৫ মার্চ রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করার লক্ষ্যে জেলাপর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে চার সদস্যের কমিটি গঠন করে। জেলা কমিটি থেকে পাওয়া সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সরকার ৮ মার্চ আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেছে।
আইনমন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আর যেসব হয়রানিমূলক মামলা এখনো প্রত্যাহার হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহার করার কার্যক্রম চলমান।