জুলাই সনদে শর্ত সাপেক্ষে স্বাক্ষর করেছি, কাল দুটো শপথ: নাহিদ ইসলাম
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ কর্মদিবসে আজ রোববার সন্ধ্যায় জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে সনদে তারা স্বাক্ষর করেছে শর্ত সাপেক্ষে। স্বাক্ষরের সময় তারা সনদে মন্তব্য লিখেছে ‘নোট অব ডিসেন্ট ব্যতিরেকে গণভোটের গণরায়ের সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সাপেক্ষে’। বিষয়টি উল্লেখ করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আগামীকাল সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের দুটো শপথ হতে যাচ্ছে। একটি সংসদ সদস্য হিসেবে, অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে।
আজ রোববার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনায় গিয়ে জুলাই সনদে সই করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন। সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সোয়া সাতটা পর্যন্ত যমুনায় অবস্থান করেন নাহিদ, আখতারসহ দলটির ছয়জন নেতা। সনদ স্বাক্ষর শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির দুই শীর্ষ নেতা।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এনসিপি সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে এবং সংসদে যাচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ ও সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করার জন্য। এটাই আমাদের ম্যান্ডেট। জনগণ আমাদের এই ম্যান্ডেটই দিয়েছে। আমরা মনে করছি, আগামীকাল শপথের আগে এবং এই অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এসে এই দলিলের সম্পূর্ণতার লক্ষ্যে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের স্বার্থে আমাদের স্বাক্ষর করা প্রয়োজন। সে জন্যই আমরা স্বাক্ষর করেছি। স্বাক্ষরে আমরা মন্তব্য রেখেছি যে আমরা কোনো নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) ব্যতিরেকে এবং গণভোটের গণরায় পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হবে, এই সাপেক্ষে সনদে স্বাক্ষর করেছি। আমাদের স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ সম্পূর্ণতা পেল। আগামীকাল থেকে আমাদের কাজ হচ্ছে সংবিধান সংস্কার পরিষদে জুলাই সনদ ও গণভোটের আদেশ অনুযায়ী সংস্কারগুলোকে বাস্তবায়ন করা।’
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিতদের শপথের বিষয়ে নাহিদ বলেন, ‘এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। কিন্তু আমরা আইন উপদেষ্টা এবং সংসদ সচিবালয়ের সচিবের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে কথা বলে জেনেছি, আগামীকাল দুটি শপথ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটাই হওয়ার কথা। কারণ, গণভোটের আদেশে খুব সুস্পষ্টভাবেই লেখা আছে যে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জাতীয় সংসদ ও সংস্কার পরিষদের সদস্য হবেন একই সঙ্গে। ফলে আগামীকাল একই সঙ্গে দুটি শপথ হবে। প্রথম শপথ সংসদ সদস্য হিসেবে যাঁরা জিতে এসেছেন এবং সেই একই ব্যক্তিরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেবেন। একই সঙ্গে পরপর দুটি শপথ হবে। এ রকমটাই আমরা জানি। গণভোটের আদেশেও সেটাই লেখা আছে।’
শপথ কে পড়াবেন, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটের আদেশের ৮ নম্বর ধারায় খুবই সুস্পষ্টভাবে বলা আছে যে যিনি সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন, সেই একই ব্যক্তি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও তাঁদের শপথ পড়াবেন। শোনা যাচ্ছে, সিইসি সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। ফলে সিইসিই সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ পড়াবেন।
এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গণ–অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়া এবং নানা সমালোচনা, সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সংস্কার, বিচার ও একটি নির্বাচনের মাধ্যমে একটা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর আমরা হয়তো আগামীকাল দেখতে পারব। সেটার জন্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং এই অন্তর্বর্তী সরকারকে আমরা ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যাতে কোনো ধরনের দ্বিধা না থাকে, এনসিপি কেন স্বাক্ষর করেনি—এমন আলোচনা যাতে না হয়—সব মিলিয়ে এই সনদ বাস্তবায়নের স্বার্থেই তাঁরা স্বাক্ষরটি করেছেন। কিন্তু এই স্বাক্ষরটা আসলে আনুষ্ঠানিকতা। কারণ, ইতিমধ্যে এনসিপি জুলাই সনদে হ্যাঁ–এর পক্ষে প্রচার চালিয়েছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আর কোনো সংশয় দেখছেন না বলেও উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, গণভোটের প্রশ্নের মধ্য দিয়ে ‘নোট অব ডিসেন্টের’ পুরো বিষয়টাই মীমাংসিত হয়ে গেছে। অবশ্যই গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে।
জুলাই সনদ স্বাক্ষর করতে নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের নেতৃত্বে যমুনায় যাওয়া এনসিপির অন্য চার নেতা হলেন মনিরা শারমিন, সারোয়ার তুষার, জাবেদ রাসিন ও জহিরুল ইসলাম মূসা।
এদিকে এনসিপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এনসিপি জুলাই সনদ স্বাক্ষরের সময় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য বদিউল আলম মজুমদার ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার জন্য প্রধান উপদেষ্টা এনসিপিকে ধন্যবাদ জানান বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।