নির্বাচনী সমতা রক্ষা করা হচ্ছে না: সিইসিকে জামায়াত
নির্বাচনের মাঠে সমতা রক্ষা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে দলটির অভিযোগ, একদিকে যাঁরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আর যাঁরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন না, তাঁদের হয়রানির জন্য জরিমানার নোটিশ দেওয়াসহ নানা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদল সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে দেখা করে এ অভিযোগ জানায়। পরে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে তাঁদের অভিযোগের কাগজের স্তূপ পড়ে আছে; কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। দলীয় প্রধানদের প্রটোকল, নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সমতা রক্ষা করা হচ্ছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা না গেলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) হবে না। তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনের প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি থেকে; কিন্তু বেশ কিছু এলাকায় বিশেষ কিছু দলের প্রার্থীরা অবাধে প্রচার চালাচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা প্রচার চালাচ্ছেন না, দলীয় সভা–সমাবেশ করছেন। এটি করতে বাধা নেই। কিন্তু তাঁদের প্রার্থীদের নামে অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাচনী কর্মকর্তারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের হয়রানি করছেন। তাঁরা কমিশনকে বলেছেন, এটা বন্ধ করতে হবে।
দলীয় প্রধানদের, বিশেষ করে বড় দুই দলের প্রধানদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সমতা রক্ষা করা হচ্ছে না অভিযোগ করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এর আগেও তাঁরা ইসির কাছে এ বিষয় তুলে ধরেছিলেন। ইসি তাঁদের আশ্বস্ত করেছিল; কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আজকেও সিইসি তাঁদের বক্তব্য শুনেছেন, আশ্বস্ত করেছেন।
তাঁরা এ বিষয়ে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা আশা করেন উল্লেখ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, এটি নিয়ে ইনিয়েবিনিয়ে সময় ক্ষেপণ করা হলে নির্বাচনী পরিবেশ ব্যাহত হবে। জনগণ যখন দেখে সরকার, নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় কেউ বিশেষ সুবিধা পাবে, সেটা ভোটারদের প্রভাবিত করবে। তিনি জানান, তাঁরা আবারও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, একটি দলের ফ্যামিলি কার্ডের ডামি বিতরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, প্রবাসে পোস্টাল ব্যালটের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বাহরাইনে বা বিদেশে জামায়াতে ইসলামীর কোনো শাখা নেই। যেখানে দলের কমিটি নেই, সেখানে রাজনৈতিক নেতা হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তাই ‘উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে’ চাপানোর কোনো সুযোগ নেই।
জামায়াতের প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দিন সরকার ও ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন উপস্থিত ছিলেন।