গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশের অর্থনৈতিক যে অবস্থা, তাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যদি ন্যূনতম বিবেক–বিবেচনা থাকত, তাহলে তিনি রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছেড়ে দিতেন। কারণ, এই অর্থনৈতিক দৈন্যদশায় তাঁর পক্ষে রাষ্ট্র পরিচালনা করা কঠিন। এরপর যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় যাবে, তাদের রাষ্ট্র পরিচালনা করতে অনেক কাটখড় পোড়াতে হবে।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এ পর্যন্ত ১৭টি উন্নয়ন  প্রকল্প তাদের কাজ স্থগিত রেখেছে, অর্থ জোগান দেওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু যেসব টাকা খরচ হয়েছে, সেসব টাকা আসবে কোথা থেকে? তিনি বলেন, এই যে টাকাগুলো চলে গেল, এই টাকা উদ্ধার করা, যারা টাকাগুলো লুট করেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনা—এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি কাজ। এই অবস্থার মধ্যে আজ দেশটা অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে।

গয়েশ্বর রায় আরও বলেন, এই সরকার একটি লুটেরা সরকার, ফ্যাসিবাদী সরকার, জনগণের পকেটমার সরকার। অর্থাৎ জনগণের পকেট যদি না মারত, তাহলে ১০ লাখ কোটি টাকা কী করে পাচার হলো? কী করে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়ে যায়? কীভাবে শেয়ারবাজারের টাকা উধাও হয়ে যায়? কী করে লাগামহীনভাবে দুর্নীতি হয়?
গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘অনেকেই গ্রেপ্তার নেতাদের মুক্তি দাবি করছেন। আমি বলব, তাঁদের মুক্তির দাবি নয়, তাঁদের মুক্ত করব। আমরা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব, কারাগারে যেসব নেতা রয়েছেন, তাঁদেরও মুক্ত করব।’

নেতা–কর্মীদের দৃঢ়ভাবে আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান গয়েশ্বর রায়। তিনি বলেন, জনগণ যখন কোনো ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের জন্য রাস্তায় নামে, তখন কোনো শক্তিতেই তারা টিকে থাকতে পারে না। তাদের পেছনের শক্তি যতই থাকুক, সেই শক্তি তাদের টিকিয়ে রাখতে পারে না।

ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুন রায় চৌধুরীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, বেনজীর আহমেদ, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ প্রমুখ।