রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের দাবি সুব্রত চৌধুরীর
সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব না থাকা সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী। একই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের জানমাল, ধর্মীয় উপাসনালয়, সম্পদ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সুরক্ষায় পৃথক সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আজ শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশ সনাতন পার্টির (বিএসপি) কেন্দ্রীয় কমিটি ‘বাংলাদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমাল, ধর্মীয় উপাসনালয়, সম্পদ, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে রাষ্ট্রের করণীয়’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে।
সভায় সুব্রত চৌধুরী বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে অ্যাটর্নি জেনারেল, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলসহ প্রায় ৩০০ জনকে নিয়োগ এবং প্রায় ৫০ জনকে বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব নিয়োগে হিন্দু বা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নেই। রাষ্ট্রের বড় বড় পদে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এটি তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার।
সভায় বাংলাদেশ সনাতন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক সুমন কুমার রায় বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সরকারি-বেসরকারি চাকরি থেকে অপসারণ বা চাকরিচ্যুতি, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নিয়োগ ও দায়িত্ব পালনে বৈষম্য এবং ডিসি, এসপি, সচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা সংবিধানসম্মত দায়িত্ব।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে পৃথক ও কার্যকর ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের দাবি জানান সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শয়ান বালা। তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাগুলোর দ্রুত তদন্ত ও বিচার, ধর্মীয় উপাসনালয় ও শ্মশানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দখল ও হয়রানি বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
বাংলাদেশ সনাতন পার্টির উপদেষ্টা প্রণবানন্দ মহারাজ গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে দেবতা শ্রীরামচন্দ্রের ছবি অবমাননার ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবির পাশাপাশি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর দ্রুত মুক্তিও দাবি করেন তিনি।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান বিবেচনা না করে দ্রুত তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সংখ্যালঘু নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
বাংলাদেশ সনাতন পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনুপ কুমার দত্তের সভাপতিত্বে সভায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাসহ ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সংগঠনের জাতীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।