মির্জা ফখরুলের বছরে আয় প্রায় ১২ লাখ টাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও–১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিভিন্ন খাত থেকে তাঁর বার্ষিক আয় প্রায় ১২ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৩ টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলামের বয়স ৭৭ বছর। শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর।
আয়ের বিবরণীতে দেখা যায়, কৃষি খাত থেকে মির্জা ফখরুলের বছরে আয় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে আয় ১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা (হুরমত আলী মার্কেটের শেয়ার থেকে)। পরামর্শক হিসেবে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মানী ভাতা পান প্রায় ৮ লাখ টাকা। অন্যান্য উৎস থেকে ৭ হাজার ৯০১ টাকা। সব মিলিয়ে তাঁর বার্ষিক আয় ১১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে মাসে আয় দাঁড়ায় ৯৮ হাজার ৫৯৪ টাকা।
বিএনপির মহাসচিবের স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ১ কোটি ৫২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮৩ টাকার সম্পদ রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকে জমা, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, শেয়ারে বিনিয়োগসহ মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬৯ টাকা। আর কৃষি ও অকৃষিজমি, বাড়ি মিলিয়ে স্থাবর সম্পত্তির (অর্জনকালীন) মূল্য ১৯ লাখ ৫ হাজার ৮১৪ টাকা।
স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, মির্জা ফখরুলের নামে পাঁচ একর কৃষিজমি রয়েছে। আর পৈতৃক সূত্রে পাওয়া দোতলা বাড়ির একটি অংশের মালিক তিনি।
এর আগে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া হলফনামায় মির্জা ফখরুল কৃষি খাত, ব্যবসা, শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র ও সম্মানী ভাতা হিসেবে বছরে আয় দেখিয়েছিলেন ১১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩৩ টাকা। এবারের হলফনামার সঙ্গে তুলনা করলে গত সাত বছরে মির্জা ফখরুলের আয় বেড়েছে মাত্র ৫৭ হাজার ৭০০ টাকা।
এবারের হলফনামায় নিজের বিরুদ্ধে মোট ৫০টি মামলার কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে ৪৭টি মামলা থেকে অব্যাহতি ও বাকি তিনটিতে খালাস পেয়েছেন তিনি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, বেআইনি সমাবেশ করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে এসব মামলা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ২০১২–২০১৫ সালে বেশি মামলা দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগেও অনেক মামলা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে হয়রানি করার জন্য এসব মামলা করা হয়েছিল বলে তখন শুরু থেকেই বিএনপির নেতারা অভিযোগ করে আসছিলেন।
বিএনপির মহাসচিবের স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ১ কোটি ৫২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮৩ টাকার সম্পদ রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকে জমা, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, শেয়ারে বিনিয়োগসহ মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬৯ টাকা। আর কৃষি ও অকৃষিজমি, বাড়ি মিলিয়ে স্থাবর সম্পত্তির (অর্জনকালীন) মূল্য ১৯ লাখ ৫ হাজার ৮১৪ টাকা।
স্ত্রীর সম্পদ কিছুটা বেশি
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় স্ত্রী রাহাত আরা বেগমের সম্পদেরও বিবরণ দেওয়া হয়েছে। তাতে দেখা যায়, রাহাত আরা বেগমের মোট প্রায় ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকার সম্পদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা মির্জা ফখরুলের সম্পদের তুলনায় ১ কোটি টাকার বেশি।
রাহাত আরার ২০ ভরি স্বর্ণসহ মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২১ লাখ ৩২ হাজার টাকা। আর মোট স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকার।
রাহাত আরা বেগমের কৃষি ও অকৃষিজমি (অর্জনকালী মূল্য ৫১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা), ঠাকুরগাঁওয়ে ১২ শতাংশ জমি (মূল্য ৩৯ লাখ ৭২ হাজার টাকা) ছাড়াও ঢাকার অদূরে পূর্বাচলে ৫ কাঠা জমি (অর্জনকালীন মূল্য ৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকা) রয়েছে। গুলশান-২ নম্বরে ১ হাজার ৯৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে; যার মূল্য দেখানো হয়েছে ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তাঁর নামে একটি গাড়ি রয়েছে, যার মূল্য ২৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা।
এবারের হলফনামায় নিজের বিরুদ্ধে মোট ৫০টি মামলার কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে ৪৭টি মামলা থেকে অব্যাহতি ও বাকি তিনটিতে খালাস পেয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, বেআইনি সমাবেশ করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে এসব মামলা দেওয়া হয়েছে।
২০২৫–২৬ অর্থবছরে মির্জা ফখরুল আয়কর দিয়েছেন ৭২ হাজার ৮৮৯ টাকা। তাঁর স্ত্রী আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৫৮৫ টাকা। আয়কর বিবরণীতে মির্জা ফখরুলের স্ত্রীর বছরের আয় ১২ লাখ ৫০ হাজার ৪৯৩ টাকা।
রাহাত আরার ২০ ভরি স্বর্ণসহ মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২১ লাখ ৩২ হাজার টাকা। আর মোট স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকার।
রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তিনি শপথ নেননি।