ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেনের বার্ষিক আয় ১ কোটি ২৯ লাখ ৩২ হাজার ৮১৭ টাকা। এই টাকা আসে চাকরি, ভাড়া, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে। তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ আছে প্রায় ৮ কোটি টাকার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া ও কোতয়ালি (আংশিক) থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে লড়তে যাচ্ছেন ঢাকার সাবেক মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক। এর আগে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সংসদ নির্বাচনে এবারই প্রথম প্রার্থী হচ্ছেন তিনি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে যাঁরা প্রার্থী হচ্ছেন, বিধি অনুযায়ী তাঁরা নিজেদের আয়-ব্যয় ও সম্পদের তথ্য হলফনামা আকারে জমা দিয়েছেন মনোনয়নপত্রের সঙ্গে। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে তা প্রকাশিত হয়েছে।
৩৮ বছর বয়সী ইশরাক হোসেন হলফনামায় নিজের পেশা উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসসি (স্নাতকোত্তর)। বর্তমানে তাঁর নামে কোনো মামলা নেই। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগে ২১টি মামলার আসামি ছিলেন। অভ্যুত্থানের পর সব কটি মামলা থেকেই অব্যাহতি পেয়েছেন।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ইশরাক হোসেনের বার্ষিক আয় ১ কোটি ২৯ লাখ ৩২ হাজার ৮১৭ টাকা। এর মধ্যে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, বাণিজ্যিক স্থান বা অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি থেকে ভাড়া বাবদ ১ লাখ ৩২ হাজার ৩০০ টাকা, শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক আমানত থেকে ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৩৯৪ টাকা, চাকরি থেকে ৬২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩২ টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে তিনি আয় করেন ৬২ লাখ ১৩ হাজার ৭৯১ টাকা।
ইশরাক হোসেন অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন ৬ কোটি ১৪ লাখ ৭৬ হাজার ৯৬৫ টাকা। এর মধ্যে নগদ আছে ১১ লাখ ১৬ হাজার ৫৭ টাকা (ব্যাংকে জমা ১ কোটি ৩৯ লাখ ৮৭ হাজার ৬৫৬ টাকা), দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা আছে ৯০ লাখ ৯২ হাজার ৬৮৮ টাকা। ইশরাকের বন্ড, ঋণপত্র ও বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার আছে ৩ কোটি ৪৪ লাখ ২০ হাজার টাকার, সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত আছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৫৯ হাজার ৭৪ টাকার, আসবাব আছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪০০ টাকার। হলফনামা অনুযায়ী, ইশরাকের কোনো ইলেকট্রনিকস পণ্য নেই। তাঁর কোনো ঋণও নেই।
হলফনামা অনুযায়ী, ইশরাক হোসেনের ৬৪ লাখ ৯২ হাজার ৪৫০ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে। এই সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৬২ লাখ ৩১ হাজার ১২৫ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে ইশরাকের কৃষিজমি আছে ৩০ লাখ ২৫ হাজার ৬৫০ টাকার, অকৃষি জমি আছে ৩৪ লাখ ৬৬ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের। তবে সেখানে কোনো বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টের তথ্য উল্লেখ করেননি তিনি।
সর্বশেষ জমা দেওয়া আয়কর বিবরণীর তথ্যও হলফনামায় দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। ১ কোটি ২৯ লাখ ৩২ হাজার ৮১৭ টাকা আয়ে বিপরীতে তিনি আয়কর দিয়েছেন ৩৭ লাখ ৯২ হাজার ৬৯৮ টাকা। সেখানে ৬ কোটি ৭৯ লাখ ৬৯ হাজার ৪১৫ টাকার সম্পদের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।