প্রথম আলো: বিভাগীয় গণসমাবেশ আয়োজনে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে বিএনপিতে। প্রস্তুতি কেমন?

সাখাওয়াত হাসান: বিএনপির পক্ষ থেকে ভালো প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমরা আশাবাদী। ১৯ নভেম্বর শুধু সমাবেশস্থল সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠই নয়, পুরো সিলেট শহর লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠবে। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত যেভাবে আমরা সাধারণ মানুষের সাড়া পেয়েছি, এটা অভাবনীয়।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকার নেই, অর্থনীতির পঙ্গু অবস্থা—এই যে মানুষ একটা আবদ্ধ অবস্থায় আছেন, তাঁরা এখন মুক্তির সন্ধান চাইছেন। এ জন্য প্রতিটি বিভাগীয় গণসমাবেশে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের সিলেটেও প্রস্তুতি খুব ভালো হয়েছে। এখানে অনেক মানুষ উপস্থিত থাকবেন।

প্রথম আলো: সিলেটে বিএনপির লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের হামলার ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে গ্রেপ্তারও হচ্ছেন নেতা-কর্মীরা। এ নিয়ে বিএনপিতে কোনো চাপ আছে?

সাখাওয়াত হাসান: আমরা লক্ষ করছি চট্টগ্রামে যখন বিভাগীয় গণসমাবেশ শুরু হলো তখন সরকারের মদদে পরিবহন ধর্মঘট সৃষ্টি করে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। একইভাবে অন্যান্য বিভাগীয় সমাবেশও বানচালের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সরকার সফল হতে পারেনি। অন্যান্য বিভাগীয় গণসমাবেশের ধারাবাহিকতায় সিলেটেও ধীরে ধীরে ভয়ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। মৌলভীবাজার, সিলেট ও হবিগঞ্জে নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিএনপিদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাহসীনা রুশদীর গাড়িতে হামলা হয়েছে। বিয়ানীবাজারে বিএনপির প্রচার মিছিলে ছাত্রলীগ হামলা করেছে। মূলত ভীতির সঞ্চার করতেই এসব করা হচ্ছে। অনেক নেতা-কর্মীর বাড়ির সামনে পুলিশ গাড়ি থামিয়ে খোঁজাখুঁজি করছে। তবে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে সমাবেশে মানুষের উপস্থিতি কমানোর উদ্দেশ্য সফল হবে না। আমরা মনে করি, ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ব্যাপকসংখ্যক লোক গণসমাবেশে উপস্থিত হবে। কেবল জাতীয়তাবাদী আদর্শের লোক নয়, সাধারণ জনগণও এখানে যুক্ত হবে। এই সমাবেশ সফল করে মূলত ১০ ডিসেম্বর ঢাকার সমাবেশ সফলের দিকে মানুষ এগিয়ে যাবেন।

প্রথম আলো: আপনারা বলছেন, ১৭ নভেম্বর থেকেই সমাবেশস্থলে মানুষ উপস্থিত হওয়া শুরু করবেন...

সাখাওয়াত হাসান: আমরা মনে করেছি পূণ্যভূমি সিলেটে গণসমাবেশ সামনে রেখে কোনো ধরনের পরিবহন ধর্মঘট হবে না। তবে পরিবহন ধর্মঘট দেওয়া হবে, এটা মনে করেই বিএনপি যাবতীয় প্রস্তুতি সেরেছে। এরই মধ্যে সমাবেশস্থলে প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। ১৭ নভেম্বর থেকে লোকজন আসা শুরু করবে বলে আমরা মনে করছি। তাই ওই দিন থেকেই আমরা জেলা-উপজেলার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মাঠেই সময় কাটাব। সেখানে রান্নাবান্না করে সবাইকে প্রয়োজনীয় খাবার পরিবেশন করা হবে।

প্রথম আলো: বিশেষ কোনো বার্তা আছে আপনাদের?

সাখাওয়াত হাসান: আমরা বারবার একটা কথাই বলতে চাই, তা হচ্ছে, বর্তমানে দেশে যে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা চলছে, তা থেকে মুক্তি পেতে হলে বিএনপির সঙ্গে সবাইকে এক হতে হবে। কারণ, এটা কেবল বিএনপির একার সমস্যা নয়, এটা সাধারণ মানুষেরও সমস্যা। দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, ভোটাধিকার হরণ, আলেম-ওলেমাকে বন্দী করে রাখা থেকে শুরু করে যাবতীয় যেসব সমস্যা আছে, সেসব দূর করতে হলে বিএনপির দাবির সঙ্গে সাধারণ মানুষকে একাত্ম হতে হবে, হচ্ছেনও সবাই। এ ক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দলকেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এই সরকারের পতন ঘটিয়ে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীন আগামী নির্বাচনের ব্যবস্থা করার দাবিতে সবাইকে রাজপথে আসতে হবে।